রেকর্ড ভাঙার পথে মোদী! নেহরুর ১২ বছরের শাসনের সমান্তরালে প্রধানমন্ত্রী, ভারতের রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস

আগামী ১০ জুন ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক মাইলফলক হতে চলেছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে একটানা ১২ বছর কার্যকাল পূর্ণ করে নরেন্দ্র মোদী স্পর্শ করতে চলেছেন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর দীর্ঘতম নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী থাকার রেকর্ড। ১৯৫২ সালের সাধারণ নির্বাচনের পর নেহরুর যে দীর্ঘমেয়াদী শাসনকাল ছিল, সেই পরিসংখ্যানকেই এবার স্পর্শ বা অতিক্রম করতে চলেছেন মোদী।
১২ বছরের শাসনের খতিয়ান: পরিবর্তনের মূলমন্ত্র
গত এক যুগে ভারতের শাসনব্যবস্থায় এসেছে আমূল পরিবর্তন। মোদী সরকারের উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল সমাজের প্রান্তিক মানুষ। সরকারের দেওয়া তথ্যানুযায়ী:
আর্থিক অন্তর্ভুক্তি: জন ধন যোজনার মাধ্যমে প্রায় ৪০ কোটিরও বেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে।
স্বচ্ছতা ও সাশ্রয়: ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (DBT)-এর মাধ্যমে সরাসরি সাধারণের অ্যাকাউন্টে পৌঁছেছে ৩৪ লক্ষ কোটি টাকা। এতে সরকারি ব্যবস্থার স্বচ্ছতা বাড়ার পাশাপাশি সাশ্রয় হয়েছে প্রায় ২.৭ লক্ষ কোটি টাকা।
আবাসন ও পরিকাঠামো: প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার (PMAY) অধীনে নতুন করে ২.৩৫ লক্ষ বাড়ি তৈরির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ২০২৮ সাল পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে ‘জল জীবন মিশন’-এর মেয়াদ।
কেন মোদী অনন্য? বিশ্লেষকদের চোখে ‘সভ্যতার আধুনিকীকরণকারী’
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মোদীর কার্যপদ্ধতি কেবল প্রশাসনিক বা নীতি নির্ধারণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। জওহরলাল নেহরুকে ‘জাতি-গঠনকারী’ বা লি কুয়ান ইউ-কে ‘উন্নয়নমূলক আধুনিকীকরণকারী’ হিসেবে বিবেচনা করা হলেও, মোদী নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন একজন ‘সভ্যতার আধুনিকীকরণকারী’ (Civilizational Moderniser) হিসেবে।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের একাংশের মতে, মোদীর নেতৃত্ব ভারতকে এক নতুন ‘সেকেন্ড রিপাবলিক’ বা ‘দ্বিতীয় সাধারণতন্ত্র’-এর দিকে নিয়ে যাচ্ছে। কেবল নীতি বাস্তবায়ন নয়, শাসনব্যবস্থাকে একটি অংশগ্রহণমূলক জাতীয় পুনরুজ্জীবনের প্রকল্পে পরিণত করাই তাঁর বিশেষত্ব। দেশের সাধারণ মানুষকে তাঁদের সাংস্কৃতিক ও জাতীয় চেতনার সঙ্গে যুক্ত করে উন্নয়নের মূল স্রোতে শামিল করাই মোদীর গত ১২ বছরের শাসনের অন্যতম বড় সাফল্য বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।