দিদি থেকে দূরত্ব, মুখ্যমন্ত্রীর মঞ্চে দেব! শুভেন্দু অধিকারীর সভায় হাজির বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদরা

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সোমবারের পর মঙ্গলবার ফের এক বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলল। তৃণমূল কংগ্রেসের ২৯ জন সাংসদের মধ্যে ২০ জনের এনডিএ-র শরিক হওয়ার আবেদন এবং লোকসভার স্পিকারকে চিঠি পাঠানোর ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক সভায় যোগ দিলেন একাধিক বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদ।
প্রশাসনিক সভায় দেব-জুন মালিয়ার উপস্থিতি:
মঙ্গলবার পূর্ব মেদিনীপুরের কোলাঘাটের বলাকা মঞ্চে আয়োজিত ছিল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠক। সেখানে উপস্থিত ছিলেন জেলা আধিকারিক থেকে শুরু করে সাংসদ ও বিধায়করা। দুপুর ১২টা ৩ মিনিট নাগাদ মঞ্চে উপস্থিত হন ঘাটালের সাংসদ দেব (দীপক অধিকারী)। তাঁর পাশাপাশি শিউলি সাহা ও জুন মালিয়ার মতো সাংসদদেরও এই প্রশাসনিক বৈঠকে দেখা যায়। মঞ্চের মূল আসনেই তৃণমূলের সাংসদ সৌম্যেন্দু অধিকারী, দেব, অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় এবং জুন মালিয়াকে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বসে থাকতে দেখা গেছে।
রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ:
একসময়ের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত দেব এবং জুন মালিয়ার মতো তারকা সাংসদদের মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক সভায় এই উপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনার জন্ম দিয়েছে। চব্বিশের নির্বাচনের আগে রাজনীতি ছাড়ার ইঙ্গিত দিলেও, মমতা ও অভিষেকের অনুরোধে দেব পুনরায় সক্রিয় হয়েছিলেন। কিন্তু নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পরই তাঁর বিজেপিকেন্দ্রিক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট তৃণমূল অন্দরে অস্বস্তি বাড়িয়েছিল।
মমতার হাতছাড়া সংসদীয় দল:
পরিষদীয় দলের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে সংসদীয় দলের নিয়ন্ত্রণও কার্যত বেরিয়ে যাওয়ার পথে। কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বাধীন এই বিদ্রোহী সাংসদদের এনডিএ-মুখী হওয়ার আবেদন রাজ্য রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের অস্তিত্বকে এক বড় সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
অন্যদিকে, প্রশাসনিক সভার শেষে ঝাড়গ্রাম জেলাশাসকসহ উচ্চপদস্থ সরকারি আধিকারিকদের বাসে করে গন্তব্যে রওনা হতে দেখা যায়, যা সামগ্রিক এই নাটকীয় পরিস্থিতির সাক্ষী থাকল। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দেব বা জুন মালিয়া সরাসরি দলবদল বা নতুন কোনো পদক্ষেপ নেবেন কি না, তা নিয়ে এখন তুঙ্গে জল্পনা।