২০০৭ থেকে iPhone আসলে কন্ডোমের কাজ করছে? জেনেনিন কি বলছে রিপোর্ট

প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় বদলেছে জীবনযাত্রা, কিন্তু এই আধুনিকতাই কি বিশ্বজুড়ে জন্মহার হ্রাসের নেপথ্যে বড় কারণ? ন্যাশনাল ব্যুরো অফ ইকোনমিক রিসার্চ এবং সিনসিনাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক দুটি গবেষণা এমন এক চাঞ্চল্যকর ইঙ্গিত দিয়েছে, যা নিয়ে এখন বিশ্বজুড়ে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে। গবেষকদের দাবি, আইফোন বা স্মার্টফোনের সহজলভ্যতা ও ব্যবহার প্রত্যক্ষভাবে জন্মহার কমে যাওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
পরিসংখ্যান কী বলছে? গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ১৯৮০ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত আমেরিকায় জন্মহার মোটামুটি স্থিতিশীল থাকলেও, ২০০৭ সালের পর থেকে এই হার নিম্নমুখী। ২০২৪ সাল নাগাদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জন্মহার ২২ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৫৪-তে নেমে এসেছে। গবেষকদের মতে, ২০০৭ সালে আইফোনের আবির্ভাব এবং এর পরবর্তী কয়েক বছরে এর ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার সাথে জন্মহার হ্রাসের হুবহু মিল পাওয়া যাচ্ছে।
গবেষণার মূল পর্যবেক্ষণ: ২০০৭ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে যে সমস্ত মার্কিন কাউন্টিতে আইফোনের নেটওয়ার্ক পরিষেবা (AT&T) শক্তিশালী ছিল, সেখানে ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সীদের মধ্যে জন্মহার ৪.৫ থেকে ৮ শতাংশ এবং ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের মধ্যে ৩.২ থেকে ৬.৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। গবেষকদের হিসেব অনুযায়ী, উক্ত সময়ে এই বয়সের নারীদের মধ্যে প্রজনন হার হ্রাসের প্রায় ৩৩ থেকে ৫২ শতাংশের জন্য আইফোন পরোক্ষভাবে দায়ী।
কেন এমনটা হচ্ছে? বিশেষজ্ঞরা এর পেছনে বেশ কিছু মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক কারণ চিহ্নিত করেছেন:
-
বাস্তব জীবনের দূরত্ব: স্মার্টফোনের প্রতি আসক্তি বাড়ায় মানুষ বাস্তব জীবনে বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো কমিয়ে দিয়েছে।
-
যৌনতার বিকল্প: পর্নোগ্রাফির সহজলভ্যতা এবং ব্যবহারের হার বৃদ্ধিকে গবেষণায় যৌনতার একটি সম্ভাব্য ‘ডিজিটাল বিকল্প’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
-
সামাজিক যোগাযোগ: বাস্তব সম্পর্কের চেয়ে ভার্চুয়াল জগতের প্রতি আগ্রহ মানুষকে ব্যক্তিগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে আরও বেশি উদাসীন করে তুলছে।
বিশ্বজুড়ে একই চিত্র শুধুমাত্র আমেরিকাই নয়, বিশ্বব্যাঙ্কের তথ্য ব্যবহার করে ১২৮টি দেশে স্মার্টফোনের প্রভাব খতিয়ে দেখা হয়েছে। সেখানেও দেখা গিয়েছে, বিভিন্ন সংস্কৃতি, ধর্ম, অর্থনৈতিক অবস্থা ও গর্ভপাত আইন থাকা সত্ত্বেও প্রতিটি দেশেই প্রায় একই সময়ে জন্মহার কমছে। বর্তমানে কানাডায় প্রজনন হার ১.২৫, যা জাপান, সিঙ্গাপুর এবং স্পেনের মতো দেশগুলোতেও ১.৩০-এর নিচে নেমে এসেছে।
চূড়ান্ত কথা গবেষকরা অবশ্য সতর্ক করেছেন যে, স্মার্টফোনই জন্মহার কমার একমাত্র কারণ নয়। জীবনযাত্রার পরিবর্তন, ক্যারিয়ার-কেন্দ্রিক মানসিকতা এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মতো একাধিক বিষয় এই পরিবর্তনের পেছনে কাজ করছে। তবে ডিজিটাল যুগে মানুষের সম্পর্কের সমীকরণ যে বদলেছে এবং তার প্রভাব জনতাত্ত্বিক কাঠামোর ওপর পড়ছে, তা এই গবেষণাগুলো ফের একবার স্পষ্ট করে দিল।