‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পে বড় ধাক্কা! অযোগ্যদের চিহ্নিত করে কড়া ব্যবস্থার পথে রাজ্য সরকার

‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পরই নড়েচড়ে বসল রাজ্য প্রশাসন। পূর্বতন সরকারের আমলে এই প্রকল্পে যারা সুবিধা পেয়েছিলেন, তাদের প্রত্যেককে পুনরায় যাচাই (Re-verification) করার নির্দেশ দিলেন মুখ্যসচিব। নিয়ম বহির্ভূতভাবে যারা সরকারি টাকা আত্মসাৎ করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে।
কেন এই যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত? অভিযোগ উঠেছে, যোগ্য ব্যক্তিদের বঞ্চিত করে বহু অযোগ্য ব্যক্তি এই প্রকল্পের সুবিধা নিয়েছেন। এর ফলে সরকারি কোষাগারের বিপুল ক্ষতি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের সচিব পি উলগানাথনকে পাঠানো চিঠিতে মুখ্যসচিব নির্দেশ দিয়েছেন, প্রকল্পের উভয় পর্যায়ের উপভোক্তাদের তালিকা যেন দ্রুত খতিয়ে দেখা হয় এবং অযোগ্যদের চিহ্নিত করা হয়। বিশেষভাবে SIR 2026-এ চিহ্নিত ASDD সুবিধাভোগীদের ওপর নজর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
প্রকল্পের নিয়ম ও বর্তমান পরিস্থিতি ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পে উপভোক্তাদের কিস্তিতে মোট ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। প্রথম ধাপে ৬০ হাজার টাকা পাওয়ার পর, সেটি বাড়ি তৈরির কাজে সঠিকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে কি না, তা যাচাই করেন ব্লকের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরা। এর পরেই মিলত দ্বিতীয় ধাপের টাকা। এবার সেই পুরনো হিসাব ও তথ্য খুঁটিয়ে দেখা হবে। রাজ্য সরকারকে এ বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে হবে।
অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে সংশয় অন্যদিকে, ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র টাকা নিয়ে উপভোক্তাদের মধ্যে বিভ্রান্তি চরমে। ৩ জুন থেকে অনেকের অ্যাকাউন্টে ১৫০০ বা ৩০০০ টাকা ক্রেডিট হলেও, এখনো অনেকেই কোনো টাকা পাননি। যারা নতুন ফর্ম পূরণ করতে পারেননি, তারা আদৌ টাকা পাবেন কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। তবে যাদের অ্যাকাউন্টে ৩০০০ টাকা ঢুকেছে, তারা মনে করছেন মে ও জুন—এই দুই মাসের বকেয়া টাকা একসঙ্গে এসেছে।
সরকারি এই প্রকল্পের অডিট এবং উপভোক্তা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় দুর্নীতিগ্রস্তদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ। রাজ্য সরকার কি সত্যিই অযোগ্যদের থেকে টাকা উদ্ধার করতে পারবে? সেটাই এখন দেখার বিষয়।