রাজ্যে বড় জয় ‘আয়ুষ্মান ভারত’-এর! ১১০০ হাসপাতাল যুক্ত হওয়ার পথে, কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?

অবশেষে সরকারিভাবে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত হলো পশ্চিমবঙ্গ। রবিবার দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে এই ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যের প্রায় ৬ কোটিরও বেশি মানুষ এবার থেকে কেন্দ্রীয় এই স্বাস্থ্য বিমা প্রকল্পের সুফল পাবেন।
রাজনৈতিক তরজা ও মুখ্যমন্ত্রীর তোপ দীর্ঘদিন ধরে এই প্রকল্প রাজ্যে কার্যকর না হওয়ার জন্য পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে এদিন তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “যাঁরা রাজনৈতিক কারণে রাজ্যের মানুষকে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত করেছিলেন, মানুষ তাঁদের যোগ্য জবাব দিয়ে ছুড়ে ফেলে দিয়েছে।”
দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের পক্ষ থেকে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের কার্যকারিতা নিয়ে যে প্রশ্ন তোলা হতো, তা এদিন পরিসংখ্যান দিয়ে খণ্ডন করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ২০১৮ সাল থেকে দেশজুড়ে প্রায় ১২.১৭ কোটি মানুষকে হাসপাতালের চিকিৎসা খরচ বাবদ ১.৮২ লক্ষ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, “রাজনীতির শিকার হয়ে গত ৮ বছর ধরে বাংলার মানুষ এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত থেকেছেন।”
কী কী সুবিধা পাবেন রাজ্যবাসী?
-
১১০০ হাসপাতালের তালিকা: মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, রাজ্যের প্রায় ১১০০টি হাসপাতাল ইতিমধ্যেই আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার জন্য আবেদন জানিয়েছে। দ্রুত এই নথিভুক্তির প্রক্রিয়া শেষ করার জন্য তিনি কেন্দ্রীয় সরকারকে অনুরোধ করেছেন।
-
পরযায়ী শ্রমিকদের সুবিধা: রাজ্যের প্রায় ১ কোটির বেশি পরিযায়ী শ্রমিক যারা বাংলার বাইরে কাজ করেন, তাঁরাও এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে চিকিৎসা পরিষেবার সুবিধা পাবেন।
-
নারী ক্ষমতায়ন: কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই প্রকল্পে অনুমোদিত কার্ডের ৪৯ শতাংশই মহিলাদের জন্য, যা নারী স্বাস্থ্যের সুরক্ষায় বড় ভূমিকা নিচ্ছে।
ভবিষ্যতের পথচলা সূত্রের খবর, অদূর ভবিষ্যতে রাজ্যে ‘স্বাস্থ্য সাথী’র পরিবর্তে রাজ্যবাসীকে পুরোপুরিভাবে আয়ুষ্মান ভারতের ছাতার তলায় নিয়ে আসাই বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য। এদিন এই চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গও অবশেষে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য বিমার মূল স্রোতে সামিল হলো।