তৃণমূলে ভাঙনের সুর! সুখেন্দুর পদত্যাগে সিলমোহর ঋতব্রতর, দিল্লিতে বড়সড় ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত?

বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ফাটল যেন আর থামছে না। একের পর এক নেতার বিদ্রোহ এবং দল ত্যাগের গুঞ্জনে জেরবার শাসকদল। এবার বর্ষীয়ান নেতা সুখেন্দুশেখর রায়ের পদত্যাগকে সরাসরি সমর্থন জানালেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, এটি কেবল একটি পদত্যাগ নয়, বরং তৃণমূলের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা এক বৃহত্তর ‘ইচ্ছার ঐক্য’-এর প্রতিফলন।
তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বকে তুলোধোনা: সোমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূলের বর্তমান সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, “তৃণমূলের সংগঠন এখন আর কোনো রাজনৈতিক কাঠামো নয়, কেবল ভাঁড়ামোর মঞ্চে পরিণত হয়েছে।” তিনি স্পষ্টভাবে ডেরেক ও’ব্রায়েনকে নিশানা করে বলেন, “ফুটবল ক্লাব চালানো বা কুইজ শো করা এক জিনিস, কিন্তু সংসদের পবিত্রতাকে ভাঁড়ামোর জায়গা বানানো কোনোভাবেই কাম্য নয়।”
প্রবীণদের প্রতি অবহেলার অভিযোগ: ঋতব্রতর অভিযোগ, তৃণমূলের অন্দরে প্রবীণ ও অভিজ্ঞ নেতাদের অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে অপমান করা হয়েছে। তিনি জানান, সুখেন্দুশেখর রায়ের মতো পার্লামেন্টারিয়ানকে দিনের পর দিন রাজ্যসভার শেষ সারিতে বসিয়ে রাখা হতো, অথচ কোনো রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা নেই এমন ব্যক্তিদের সামনের সারিতে জায়গা দেওয়া হতো। এমনকি নিজের ক্ষেত্রেও ১৫ মাস ধরে এই একই বঞ্চনার শিকার হওয়ার কথা তুলে ধরেন তিনি।
দিল্লিতে কি অন্য কোনো সমীকরণ? সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, লোকসভার প্রায় ১৫-১৮ জন তৃণমূল সাংসদ যে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ওপর অত্যন্ত ক্ষুব্ধ এবং তাঁরা যে গোপনে জোটবদ্ধ হচ্ছেন, সেই জল্পনায় কার্যত সিলমোহর দিয়েছেন ঋতব্রত। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, বিক্ষুব্ধ সাংসদদের সঙ্গে তাঁর নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। রাজ্য থেকে রাজধানীতে পরিবর্তনের এই বার্তা পৌঁছে গেছে এবং আগামী দিনে দল ত্যাগের সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বাড়বে বলেও দাবি তাঁর।
মমতার নেতৃত্বকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ: তৃণমূল সুপ্রিমোর নেতৃত্বকে কার্যত ‘একনায়কতন্ত্র’ আখ্যা দিয়ে ঋতব্রত বলেন, “ক্ষমতা হারানোর পরও নেতৃত্বের সম্বিত ফেরেনি। উটপাখির মতো বালিতে মুখ গুঁজে তাঁরা প্রলয়কে অস্বীকার করার চেষ্টা করছেন।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিধানসভার বিরোধী দলনেতার এই আক্রমণাত্মক অবস্থান তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বকে আরও বড় রাজনৈতিক সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। দিল্লিতে বসে যে গোপন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে, তা কি তৃণমূলের অস্তিত্বের ভিত নাড়িয়ে দেবে? উত্তর খুঁজছে বঙ্গ রাজনীতি।