তৃণমূল নেতার গ্রেফতারিতে শোরগোল ময়নাগুড়িতে! তোলাবাজি ও জমি দখলের অভিযোগে কোণঠাসা শাসকদল

রাজ্যে পালাবদলের আবহে একের পর এক তৃণমূল নেতাদের গ্রেফতারি রাজনৈতিক মহলে বড়সড় ধাক্কা দিচ্ছে। এবার তোলাবাজি, হুমকি এবং জমি দখলের মতো গুরুতর অভিযোগে গ্রেফতার হলেন ময়নাগুড়ি ১ নম্বর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি তথা খাগড়াবাড়ি ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান বাবলু রায়। রবিবার গভীর রাতে নিজ বাসভবন থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে ময়নাগুড়ি থানার পুলিশ।
অভিযোগের তালিকা দীর্ঘ: ময়নাগুড়ির প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত বাবলু রায়ের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল স্থানীয়দের। পঞ্চায়েত প্রধানের ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি এলাকায় জমি দখল ও তোলাবাজি চালাতেন বলে অভিযোগ। বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই বাবলু রায় এলাকায় কার্যত ‘বেপাত্তা’ ছিলেন। এমনকি পঞ্চায়েত কার্যালয়েও তাঁকে নিয়মিত দেখা যাচ্ছিল না বলে দাবি বিরোধীদের। বিজেপির অভিযোগ ছিল, প্রধানের কাছে ডেপুটেশন দিতে গিয়েও তাঁকে দিনের পর দিন পাওয়া যায়নি।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসার দাবি ধৃত নেতার: গ্রেফতারির পর বাবলু রায় নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। পুলিশের গাড়িতে ওঠার সময় তিনি সাংবাদিকদের জানান, “আমার বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার করেই আমাকে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানো হয়েছে।” অন্যদিকে, এ বিষয়ে তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্বের মুখে কুলুপ।
বিজেপির কটাক্ষ: তৃণমূল নেতার গ্রেফতারি নিয়ে জলপাইগুড়ির বিজেপি জেলা সহ-সভাপতি চঞ্চল সরকার তীব্র আক্রমণ করেছেন। তিনি বলেন, “নিজের কৃতকর্মের ফল ভোগ করছেন বাবলু রায়। যে অন্যায় তিনি করেছেন, তার পরিণাম তাকে পেতেই হতো।”
পুলিশি পদক্ষেপ: ময়নাগুড়ি থানা সূত্রে খবর, বাবলু রায়ের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সোমবার তাঁকে জলপাইগুড়ি আদালতে হাজির করানো হবে। তদন্তের প্রয়োজনে পুলিশ তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নিতে আদালতে আবেদন জানাতে পারে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক তৃণমূল জনপ্রতিনিধি ও নেতার বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপের খবর সামনে আসছে। একে একে জোড়াসাঁকোর কাউন্সিলর থেকে শুরু করে প্রাক্তন বিধায়কদের গ্রেফতারি শাসকদলকে যে প্রবল অস্বস্তিতে ফেলেছে, তা বলাই বাহুল্য।