এলপিজি সঙ্কটে বড় স্বস্তি! আর্জেন্টিনা থেকে আসছে গ্যাস, আদানির সাথে ১০ বছরের বড় চুক্তি

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতা এবং হরমুজ প্রণালীর সঙ্কটে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম যখন অগ্নিমূল্য, ঠিক সেই সময়ে ভারতের জন্য এক আশার আলো দেখালো শিল্পপতি গৌতম আদানির সংস্থা ‘আদানি পোর্টস অ্যান্ড স্পেশাল ইকোনমিক জোন’ (APSEZ)। আর্জেন্টিনার সঙ্গে ১০ বছরের এক ঐতিহাসিক এলএনজি (LNG) রপ্তানি চুক্তি সম্পন্ন করেছে আদানি গ্রুপ, যা ভারতের জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে।

চুক্তির মূল বিষয়গুলো একনজরে:

  • নতুন করিডোর: ২০২৭ সাল থেকে ভারত ও আর্জেন্টিনার মধ্যে এই নতুন জ্বালানি বাণিজ্য করিডোর চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আর্জেন্টিনা থেকে বার্ষিক ১০ মিলিয়ন টন পর্যন্ত এলএনজি ভারতে আসার পথ প্রশস্ত হবে।

  • বিনিয়োগ: এই প্রকল্পের জন্য প্রায় ৭০ মিলিয়ন ডলারের বিশাল বিনিয়োগ করা হচ্ছে। আদানি পোর্টস আর্জেন্টিনার উপকূল থেকে বড় বড় গ্যাসবাহী জাহাজগুলোকে নিরাপদে পরিবহন করার দায়িত্ব নিয়েছে।

  • পরিসেবা: এই কাজ পরিচালনার জন্য চারটি বিশেষ টাগবোট, একটি অ্যাঙ্কর হ্যান্ডলিং টাগ সাপ্লাই ভেসেল এবং ক্রু বোট মোতায়েন করা হবে।

কেন এই চুক্তি ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ? বর্তমানে ভারত মূলত মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর ওপর এলপিজি ও গ্যাসের জন্য নির্ভরশীল। কিন্তু ইরান-ইসরায়েল ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে পণ্য সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। এমন টালমাটাল সময়ে আর্জেন্টিনা ভারতের জন্য এক বিশ্বস্ত বিকল্প সরবরাহকারী দেশ হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। এই চুক্তির ফলে উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর ভারতের নির্ভরতা কমবে এবং দীর্ঘমেয়াদে গ্যাসের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হতে পারে।

দক্ষিণ আমেরিকায় আদানির যাত্রা: ইসরায়েল ও শ্রীলঙ্কার পর এবার দক্ষিণ আমেরিকার বাজারে পা রাখল আদানি গ্রুপ। ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের বৃহত্তম পোর্ট অপারেটর হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলা এই সংস্থা এই চুক্তির মাধ্যমে বার্ষিক ৭ মিলিয়ন ডলারের নিশ্চিত আয়ের আশা করছে।

সাধারণ মানুষের জন্য প্রভাব: দেশে এলপিজি সিলিন্ডারের ক্রমবর্ধমান দাম নিয়ে যখন সাধারণ মানুষ চিন্তিত, তখন এই বিকল্প জ্বালানি উৎসের সন্ধান পাওয়া অবশ্যই বড় স্বস্তির খবর। আর্জেন্টিনা থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু হলে দেশে রান্নার গ্যাসের সহজলভ্যতা বাড়বে এবং দামের ওপর চাপ কমতে পারে বলে মনে করছেন শিল্প বিশেষজ্ঞরা।