CIBIL স্কোর ৭৩০-এর নীচে লোন মিলবে না? বড় সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিলো RBI

আপনি কি ভবিষ্যতে বাড়ি, গাড়ি বা উচ্চশিক্ষার জন্য লোন নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন? তবে এই খবরটি আপনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। লোন সংক্রান্ত নিয়মাবলীতে বড়সড় পরিবর্তনের পথে হাঁটছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া। মূলত ‘এক্সপেক্টেড ক্রেডিট লস’ (ECL) নামক নতুন কাঠামোর আওতায় লোন দেওয়ার প্রক্রিয়া আরও কঠোর করা হচ্ছে।

সিবিল স্কোরের নতুন গুরুত্ব: নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ঋণগ্রহীতার ক্রেডিট স্কোর বা সিবিল স্কোর ৭৩০-এর নীচে থাকলে লোন পাওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে। পরিসংখ্যান বলছে, দেশের প্রায় ৬২ শতাংশ ঋণ আবেদনকারীর স্কোর বর্তমানে ৭৩০-এর নীচে। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে এই বিপুল সংখ্যক মানুষের জন্য ঋণ পাওয়ার পথ অনেকটাই সংকীর্ণ হয়ে যাবে। এমনকি লোন পাওয়া গেলেও, উচ্চ সুদের হার বা অতিরিক্ত জামানতের শর্ত জুড়ে দিতে পারে ব্যাঙ্কগুলি।

কেন এই কড়াকড়ি? ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও ঝুঁকিমুক্ত করতে RBI এই পদক্ষেপ নিচ্ছে। নতুন নিয়মে, যদি কোনো গ্রাহক ৯০ দিন পর্যন্ত ইএমআই (EMI) জমা না দেন, তবে ব্যাঙ্ককে ওই অর্থের ১২ গুণ পরিমাণ টাকা আলাদা করে গচ্ছিত রাখতে হবে। এর ফলে ব্যাঙ্কের মুনাফার ওপর বড় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে, যার জেরে ব্যাঙ্কগুলি এখন থেকে ‘প্রিমিয়াম গ্রাহকদের’ (যাদের সিবিল ৭৩০-এর বেশি) দিকেই বেশি নজর দেবে।

ঝুঁকি মাপার মাপকাঠি: ইসিএল (ECL) নিয়মের অধীনে ব্যাঙ্কগুলি লোন দেওয়ার আগে গ্রাহকদের খুঁটিয়ে পরীক্ষা করবে। এক্ষেত্রে দেখা হবে:

  • ঋণ পরিশোধের অতীত রেকর্ড।

  • সিবিল স্কোরের ওঠানামা।

  • আয়ের স্থিতিশীলতা ও চাকরির ঝুঁকি।

  • লোন-টু-ভ্যালু (LTV) অনুপাত।

সাধারণ গ্রাহকদের জন্য পরামর্শ: আগামী ১ এপ্রিল ২০২৭ থেকে এই নিয়ম কার্যকর হবে। তবে সময় থাকতেই সতর্ক হওয়া জরুরি। বিপদের হাত থেকে বাঁচতে এবং ভবিষ্যতে সহজে ঋণ পেতে এখন থেকেই কিছু অভ্যাস গড়ে তুলুন: ১. সময়মতো ইএমআই ও ক্রেডিট কার্ড বিল পরিশোধ করুন। ২. অপ্রয়োজনীয় ঋণের পরিমাণ কমিয়ে আনুন। ৩. ক্রেডিট স্কোর নিয়মিত চেক করুন এবং স্কোর বাড়ানোর দিকে বিশেষ নজর দিন।

মনে রাখবেন, আগামী দিনে আপনার দুর্দান্ত সিবিল স্কোরই হবে কম সুদে দ্রুত ঋণ পাওয়ার প্রধান চাবিকাঠি। তাই ব্যাঙ্কিং লেনদেনে এখন থেকেই সাবধানতা অবলম্বন করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।