ফিরহাদের পর কে মেয়র? কাউন্সিলরদের সই করানো নিয়ে তৃণমূলের অন্দরে চরম অস্বস্তি!

কলকাতা পুরসভার মেয়রের কুর্সি এখন টালমাটাল। ফিরহাদ হাকিমের আকস্মিক ইস্তফার পর শহরের প্রশাসনিক প্রধান কে হবেন, তা নিয়ে যেমন জল্পনা বাড়ছে, তেমনই তৃণমূলের অন্দরে বাড়ছে ভাঙনের আতঙ্ক। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, বোর্ড ধরে রাখতে কাউন্সিলরদের থেকে ‘সাদা কাগজে’ সমর্থনসূচক সই নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে দল।
কাউন্সিলরদের অনীহা ও তৃণমূলের সংকট: দলীয় সূত্রে খবর, রবিবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা মিটিং বাতিল হওয়ার পর কাউন্সিলরদের দিয়ে একটি কাগজে সই করানো হচ্ছে—যেখানে লেখা রয়েছে, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যাঁকে মেয়র মনোনীত করবেন, তাঁর প্রতিই সমর্থন থাকবে।” কিন্তু সূত্রের খবর, মেয়র পারিষদ থেকে শুরু করে বোরো চেয়ারম্যানদের একটি বড় অংশ এই সই করতে নারাজ। অনেক কাউন্সিলরই নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছেন, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে পুরসভায় তৃণমূলের রাশ আলগা হয়ে আসছে।
কার নাম জল্পনায়? গুঞ্জন বলছে, প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের নাম নিয়ে শীর্ষ মহলে আলোচনা চলছে। অন্যদিকে, ডেপুটি মেয়র পদে অতীন ঘোষের নামও জোরেশোরে শোনা যাচ্ছে। তবে শোভন চট্টোপাধ্যায় নিজে এই বিষয়ে কোনো সরাসরি মন্তব্য না করে জানিয়েছেন, সিদ্ধান্তটি রাজনৈতিক এবং তা প্রশাসনিকভাবে বাস্তবায়িত হবে।
আইনি জটিলতা ও প্রশাসক বসার আশঙ্কা: পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, নতুন মেয়র নির্বাচনের জন্য আইন অনুযায়ী ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা দেওয়া হয়েছে। সোমবার বিকেলের মধ্যেই সেই সময়সীমা শেষ হচ্ছে। যদি এই সময়ের মধ্যে নতুন মেয়র নির্বাচন বা যথাযথ প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হয়, তবে সরকারি আইন অনুযায়ী কলকাতা পুরসভায় প্রশাসক বসানোর সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। সম্প্রতি বিধাননগর ও চন্দননগর পুরসভার ক্ষেত্রেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায়, কলকাতার ক্ষেত্রেও সেই একই পথ নেওয়া হতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
পুরসভার ভবিষ্যৎ: খাতায়-কলমে ১৩৬ জন কাউন্সিলর তৃণমূলের দখলে থাকলেও, অন্তর্কোন্দল ও একের পর এক ইস্তফার জেরে ম্যাজিক ফিগার ধরে রাখা এখন চ্যালেঞ্জিং। বিরোধী কাউন্সিলররাও অনাস্থার হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন। সব মিলিয়ে, আগামী কয়েক ঘণ্টা কলকাতা পুরসভার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।