বিদ্যুৎ ও জলের বিশাল প্রয়োজন! কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বাড়বাড়ন্তে বড় বিপদের মুখে পরিবেশ?

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) এখন আমাদের জীবনযাপনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠছে। কিন্তু এই প্রযুক্তির নেপথ্যে যে এক ভয়াবহ পরিকাঠামোগত চাহিদা লুকিয়ে আছে, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন বিশেষজ্ঞরা। প্রযুক্তিবিদরা বলছেন, এআই ডেটা সেন্টারগুলি আক্ষরিক অর্থেই ‘ক্ষুধার্ত ও তৃষ্ণার্ত’। এদের সচল রাখতে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ এবং শীতলীকরণের জন্য জলের প্রয়োজন হয়, যা আগামী দিনে দেশের বিদ্যুৎ ও জল সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর বড়সড় চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
কেন এআই ডেটা সেন্টার ‘ক্ষুধার্ত’? চ্যাটজিপিটি বা জেমিনাইয়ের মতো এআই মডেলগুলো চালানোর জন্য লক্ষ লক্ষ কম্পিউটিং চিপ বা জিপিইউ (GPU) প্রয়োজন হয়। এই চিপগুলো যখন কাজ করে, তখন তা প্রচণ্ড উত্তাপ তৈরি করে। এগুলোকে ২৪ ঘণ্টা চালু রাখতে এবং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এসি এবং বিশাল কুলিং সিস্টেম চালাতে হয়। এর জন্য প্রয়োজন হয় প্রচুর পরিমাণে বিদ্যুৎ।
জল কেন প্রয়োজন? ডেটা সেন্টারের বিশাল সার্ভারগুলো ঠান্ডা রাখতে জলভিত্তিক কুলিং সিস্টেম ব্যবহার করা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, একটি আধুনিক ডেটা সেন্টার প্রতিদিন কয়েক লক্ষ গ্যালন জল ব্যবহার করে, যা একটি ছোট শহরের প্রয়োজনীয় জলের সমান। জলবায়ু পরিবর্তনের এই যুগে যখন বিশ্বের বহু দেশ জলসংকটে ভুগছে, তখন এআই-এর এই জলের ব্যবহার নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
পরিকাঠামোর ওপর প্রভাব: ১. বিদ্যুতের সংকট: এআই-এর চাহিদা মেটাতে গিয়ে বর্তমান পাওয়ার গ্রিডগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে, যা লোডশেডিং বা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। ২. জলস্তর নামছে: ডেটা সেন্টারের জন্য স্থানীয় জলাধার বা ভূগর্ভস্থ জলের ব্যাপক ব্যবহারের ফলে স্থানীয় এলাকায় জলের সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকছে। ৩. কার্বন ফুটপ্রিন্ট: এই বিপুল পরিমাণ বিদ্যুতের বেশিরভাগই এখনও জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে আসে, যা পরোক্ষভাবে পরিবেশের ক্ষতি করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই-এর বিকাশ অবশ্যই দরকার, তবে এখন সময় এসেছে আরও দক্ষ এবং পরিবেশবান্ধব ‘গ্রিন ডেটা সেন্টার’ তৈরির। প্রযুক্তি সংস্থাগুলোকে জল পুনর্ব্যবহারযোগ্য করার প্রযুক্তি এবং নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহারের ওপর জোর দিতে হবে। নতুবা উন্নয়নের এই দৌড় পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে।