ভারতের জন্য বড় স্বস্তি! বিশ্বব্যাপী তেল সংকটের মাঝেই নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখার আশ্বাস রাশিয়ার

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনা এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তার মধ্যে ভারতের জন্য এল বড় স্বস্তির খবর। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল সংস্থা ‘রসনেফট’ নিশ্চিত করেছে যে, ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার স্বার্থে অপরিশোধিত তেল সরবরাহ কোনোভাবেই ব্যাহত হবে না।

কী জানাল রাশিয়ার রসনেফট? সংস্থাটির প্রধান ইগর সেচিন জানিয়েছেন, ভারত ও চীনের মতো দেশগুলির কাছে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন থাকবে। তাঁর দাবি, রাশিয়া বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ২০২২ সালের এপ্রিল মাস থেকে রাশিয়া থেকে সাশ্রয়ী মূল্যে তেল আমদানি করে ভারত ও চীন আর্থিকভাবে প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলারের বেশি সাশ্রয় করতে পেরেছে। এটি আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার সময় দুই দেশের অর্থনীতির ওপর চাপ কমাতে বড় ভূমিকা নিয়েছে।

ভারতের কাছে কেন এই আশ্বাস গুরুত্বপূর্ণ? ১. মূল্য নিয়ন্ত্রণ: ভারত তার মোট চাহিদার একটি বিশাল অংশ বিদেশ থেকে আমদানি করে। রাশিয়া থেকে সাশ্রয়ী মূল্যে তেল পাওয়ায় অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানির দাম স্থিতিশীল রাখা সহজ হচ্ছে। ২. জ্বালানি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থার (IEA) তথ্য অনুযায়ী, ২০৩৫ সাল নাগাদ ভারতের দৈনিক তেল ব্যবহারের চাহিদা ৮০ লক্ষ ব্যারেলে পৌঁছাতে পারে, যা বর্তমানের তুলনায় ৪৪ শতাংশ বেশি। এই ক্রমবর্ধমান চাহিদার সময় রাশিয়ার এই স্থিতিশীল অংশীদারিত্ব ভারতের শিল্প প্রসারে অত্যন্ত জরুরি। ৩. ভূ-রাজনৈতিক সংকট: বর্তমান পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালীতে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার ফলে বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই অবস্থায় রাশিয়ার সরাসরি সহযোগিতার আশ্বাস ভারতের দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি সুরক্ষায় বড় ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি অংশীদারিত্ব ভারতকে আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে এবং অর্থনীতির গতি বজায় রাখতে আরও সাহায্য করবে।