নিরাপত্তা নিয়ে বিহারে বড় সংঘাত! জেড+ নিরাপত্তা প্রত্যাহারের পর কর্মীদের ফেরালেন লালু-রাবড়ি!

বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী লালুপ্রসাদ যাদব ও রাবড়ি দেবীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা সংশোধন করে তা কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। এই সিদ্ধান্তের পরই প্রতিবাদের পথে হেঁটেছে আরজেডি পরিবার। জেড+ নিরাপত্তা প্রত্যাহার করার পর লালু-রাবড়ি তাঁদের সরকারি বাসভবন থেকে নিরাপত্তারক্ষীদের ফিরিয়ে দিয়েছেন। এবার সেই পথেই হেঁটে নিজের ওয়াই+ ক্যাটাগরির নিরাপত্তা প্রত্যাখ্যান করলেন বিহারের বিরোধী দলনেতা তেজস্বী যাদব।
কেন এই ক্ষোভ?
লালুপ্রসাদ ও রাবড়ি দেবীর জেড+ নিরাপত্তা প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর আরজেডির অন্দরে তীব্র ক্ষোভ দানা বেঁধেছে। লালু-তনয়া রোহিনী আচার্য বিজেপি সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, নিরাপত্তায় কাটছাঁট করার পর এই লোকদেখানো ব্যবস্থা রাখার কোনো প্রয়োজন নেই। রোহিনীর কথায়, “বিহারের লক্ষ লক্ষ মানুষই আমাদের পরিবারের আসল রক্ষাকবচ।” তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, পরিবারের কারো সামান্যতম ক্ষতি হলে তার পরিণতি সরকারকেই ভোগ করতে হবে।
সরকারের ব্যাখ্যা:
অন্যদিকে, বিজেপির রাজ্য সভাপতি সঞ্জয় সরস্বতী এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে জানিয়েছেন যে, নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো ঘাটতি করা হয়নি। তাঁর মতে, বিষয়টি শুধুমাত্র সামাজিক মর্যাদার প্রতীক হিসেবে কমান্ডো ও এসকর্ট গাড়ির ব্যবহারকে কেন্দ্র করে। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে লালু ও রাবড়ি দেবীর প্রাপ্য নিরাপত্তা তাঁরা পাবেন। সরকারি কমিটির নিয়ম মেনেই এই নিরাপত্তা পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতি:
সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী, এখন থেকে রাবড়ি দেবী ও লালুপ্রসাদ যাদবকে নির্দিষ্ট সংখ্যক গৃহরক্ষী, দেহরক্ষী এবং বুলেটপ্রুফ গাড়ি দেওয়া হবে। কিন্তু পরিবারের সদস্যরা নির্দেশ দিয়েছেন, বাসভবনের ভেতরে কোনো নিরাপত্তাকর্মী থাকা যাবে না। ফলে নিরাপত্তারক্ষীরা এখন বাসভবনের বাইরে অবস্থান করছেন। তেজস্বী যাদব দিল্লিতে থাকায় সেখান থেকেই তিনি নিজের নিরাপত্তারক্ষীদের ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সামনে নির্বাচন বা গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই নিরাপত্তা নিয়ে তরজা বিহারের রাজনীতির পারদ আরও বাড়িয়ে দিল।