চিংড়িহাটা পরিদর্শনে মুখ্যমন্ত্রী, রেলের বড় প্রজেক্টে জমি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কী বললেন শুভেন্দু?

রাজ্যে রেলের পরিকাঠামো উন্নয়নে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। শনিবার কলকাতায় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের উপস্থিতিতে রাজ্য ও কেন্দ্রের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে উঠে এল বড় অঙ্কের বিনিয়োগের বার্তা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানালেন, রাজ্যের উন্নয়নের স্বার্থে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে নতুন সমন্বয় গড়ে উঠেছে এবং এর হাত ধরেই রাজ্যে রেলখাতে ১ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগ হতে চলেছে।

১ লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগ ও নতুন প্রকল্প:
বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী জানান, সরকার গঠনের এক মাসের মধ্যেই রেলের সাথে উন্নয়নমূলক কাজে গতি এসেছে। রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের কলকাতা সফরের প্রেক্ষিতেই এই বড় পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “১০২টি নতুন অমৃত ভারত স্টেশন আধুনিকীকরণের কাজ এবং ৫৩৮টি রেল রোড ওভার ব্রিজ ও সাবওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।”

বাজেট বরাদ্দ ও কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক:
আগের ইউপিএ সরকারের সঙ্গে তুলনা টেনে মুখ্যমন্ত্রী জানান, “আগের সরকার বাংলাকে মাত্র ৪,৩৮০ কোটি টাকা দিয়েছিল। আর এখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন সরকার এক বছরেই ১৪,২০৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। এনওসি (NOC) বা অনাপত্তি পত্রের জটিলতা কেটে গেলে রাজ্যে ১ লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগের পথ প্রশস্ত হবে।”

জমির জট কাটাতে তৎপর সরকার:
রেলের কাজে জমি দেওয়া নিয়ে অতীতে যে বিতর্ক ছিল, তা মিটিয়ে ফেলার বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, “রেলের মেজর মিশন প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় জমি রাজ্য সরকার সরবরাহ করবে। উত্তর থেকে দক্ষিণবঙ্গ, জঙ্গলমহল থেকে নন্দীগ্রাম—যেসব এলাকা রেল মানচিত্রের বাইরে ছিল, তাদের অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।”

মুখ্যমন্ত্রী আরও যোগ করেন, “নদীয়া, মুর্শিদাবাদ, লালগড়, হিলি, সুন্দরবনের মতো এলাকায় রেলপথ প্রসারের জন্য রাজ্য সরকার জমি অধিগ্রহণে সবরকম সহায়তা করবে। রেলওয়ে বোর্ড ১০০ শতাংশ টাকা দেবে এবং রাজ্য জমি দেবে।”

‘ডাবল ইঞ্জিনের’ সুফল:
চিংড়িহাটা পরিদর্শনের ঠিক আগেই মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চার জন্ম দিয়েছে। তিনি দাবি করেন, “ডাবল ইঞ্জিন সরকার যথাযথভাবে কাজ করছে এবং বাংলার মানুষ এবার তার আসল স্বাদ পাবেন।”

রেলমন্ত্রী ও রাজ্যের এই সমন্বয়ে আসন্ন দিনে বাংলার যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে চলেছে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।