সব কমিটি ভেঙে নতুন ছকে মমতা! টালমাটাল তৃণমূলে অভিষেকের ওপরই ভরসা সুপ্রিমোর

দলের ভরাডুবি এবং অন্দরমহলের তীব্র বিদ্রোহের মুখে দাঁড়িয়ে ফের একবার বড়সড় সাংগঠনিক রদবদল করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্প্রতি দলের সমস্ত ফ্রন্টাল অর্গানাইজেশন ভেঙে দেওয়ার পর, এবার নতুন করে সাংগঠনিক কাঠামো সাজালেন তিনি। বিদ্রোহী বিধায়ক ও সাংসদদের ক্ষোভকে ছাপিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপরই আস্থা বজায় রাখলেন তৃণমূল নেত্রী।
নতুন দায়িত্বে কারা, এক নজরে:
দল পুনর্গঠনের তালিকায় নাম রয়েছে পুরনো ও নতুন একাধিক মুখের। দেখে নিন নতুন সাংগঠনিক বিন্যাস:
সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
সর্বভারতীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: দোলা সেন ও ডেরেক ও’ব্রায়েন।
পশ্চিমবঙ্গ সভাপতি: চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য।
মহিলা তৃণমূল কংগ্রেস সভানেত্রী: মালা রায়।
যুব তৃণমূল কংগ্রেস সভানেত্রী: সায়নী ঘোষ।
ছাত্র পরিষদ সভানেত্রী: প্রিয়াঙ্কা অধিকারী।
আইএনটিটিইউসি (INTTUC) সভাপতি: মলয় ঘটক।
মুখপাত্র: রাজ্য স্তরে কুণাল ঘোষ এবং জাতীয় স্তরে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও ডেরেক ও’ব্রায়েন।
ট্রেড ও হকার ইউনিয়ন: মদন মিত্র।
তৃণমূলের ‘মাস্টারস্ট্রোক’ নাকি অস্বস্তি?
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দলীয় বিধায়কদের একাংশ যখন অভিষেকের রাজনৈতিক কার্যপদ্ধতি ও কর্পোরেট রাজনীতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন, তখন পুনরায় তাঁকে সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের পদে বহাল করা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। দলের অন্দরের অস্থিরতা সামলাতে অভিষেককে সহায়তার জন্য দোলা সেন ও ডেরেক ও’ব্রায়েনকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কুণাল ঘোষের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কাজের চাপ সামলাতেই এই নতুন সংযোজন।
কোন্দল ও উত্তাল রাজনৈতিক আঙিনা:
বিধানসভার অন্দরে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ‘নব তৃণমূল ব্লক’ গঠন এবং লোকসভার সাংসদদের মধ্যে বিদ্রোহের গুঞ্জনে রীতিমতো চাপে ঘাসফুল শিবির। বিদ্রোহী বিধায়কদের অভিযোগ, তৃণমূলের এই ভরাডুবির জন্য দায়ি অভিষেকের নেতৃত্ব। অন্যদিকে, সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই রদবদলের মাধ্যমে বুঝিয়ে দিতে চেয়েছেন যে, কঠিন পরিস্থিতিতেও তিনি নিজের ঘোষিত পথে এবং নেতৃত্বের ওপর ভরসা অটুট রেখেছেন।