তৃণমূলের অন্দরে মহাবিদ্রোহ! লোকসভাতেও কি ভাঙন? ১৮ সাংসদ নিয়ে বড় চাল কাকলির?

বিধানসভার পর এবার লোকসভাতেও তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ভাঙনের সুর স্পষ্ট হচ্ছে। বিধানসভায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ‘নব তৃণমূল ব্লক’ তৈরির রেশ কাটতে না কাটতেই, এবার লোকসভাতেও অনুরূপ পরিস্থিতি তৈরির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। সূত্রের খবর, বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে তৃণমূলের এক বড় অংশ ‘বিক্ষুব্ধ’ সাংসদ হিসেবে আলাদা গোষ্ঠী তৈরির পরিকল্পনা করছেন।
সোমবারের দিল্লি বৈঠক ও সমীকরণ:
আগামী সোমবার ইন্ডি (INDIA) জোটের বৈঠকে যোগ দিতে দিল্লি আসার কথা রয়েছে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, ঠিক সেই সময়েই লোকসভায় তৃণমূলের ফাটলের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতে পারে। জানা গেছে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে লোকসভার দলনেতা হিসেবে মানতে নারাজ কাকলিদের একাংশ। এই পরিস্থিতিতে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে তাঁরা চিঠি পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে খবর।
কারা রয়েছেন কাকলির সঙ্গে?
বর্তমানে লোকসভায় তৃণমূলের সাংসদ সংখ্যা ২৮। দলত্যাগ বিরোধী আইনের ঝামেলা এড়াতে সাংসদদের দুই-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ ১৮ জনকে একজোট করার চেষ্টা চলছে বলে সূত্রের দাবি। এই বিক্ষুব্ধ শিবিরে নাম উঠে আসছে পার্থ ভৌমিক, অসিত মাল, ইউসুফ পাঠান এবং জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়ার মতো সাংসদদের। শোনা যাচ্ছে, দলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ানো বেশ কয়েকজন সেলিব্রিটি সাংসদও এই বিদ্রোহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। এতদিন যাঁরা মমতার ‘বিশ্বস্ত সৈনিক’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন, তাঁদেরই দল ছাড়ার এই গুঞ্জন রাজ্য রাজনীতিতে প্রবল চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
রাজনৈতিক চাপানউতোর:
বিষয়টি নিয়ে অবশ্য জল মাপছে সব পক্ষই। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এই বিষয়ে কোনো যোগাযোগ থাকার কথা অস্বীকার করেছেন। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও জানিয়েছেন, তৃণমূলের কারও সঙ্গে তাঁদের কোনো আলোচনা হয়নি। তবে সব জল্পনার অবসান ঘটতে পারে আগামী সোমবার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিল্লি সফরের দিনই লোকসভায় তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ লড়াইয়ের ছবিটা পরিষ্কার হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।