হাসপাতালে মৃত্যুশয্যায় বাবা, শেষ দেখা করতে এসে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ গেল পরিবারের ৮ সদস্যের!

হাসপাতালে ভর্তি মৃত্যুশয্যায় থাকা পিতাকে শেষবারের মতো দেখার জন্য পরিবারের সবাই জড়ো হয়েছিলেন রাজধানী দিল্লিতে। কে জানত, সেই শেষ দেখাই যে আক্ষরিক অর্থেই তাদের শেষ দেখা হয়ে দাঁড়াবে! বুধবার দিল্লির মালব্য নগরের একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একই পরিবারের ৮ জন সদস্যের করুণ মৃত্যু হয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকস্তব্ধ গোটা দেশ।
কী ঘটেছিল সেদিন? ফুসফুসের সংক্রমণে আক্রান্ত ৭৫ বছরের রাধেশ্যাম আগরওয়াল দিল্লির সাকেতের ম্যাক্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। চিকিৎসকরা তাঁর বাঁচার আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন। সেই শেষ মুহূর্তগুলো প্রিয়জনের পাশে কাটানোর জন্য পরিবারের সদস্যরা গুরুগ্রাম, বেঙ্গালুরু ও রাজস্থান থেকে এসে মালব্য নগরের ‘ফ্লারিশ স্টে হোটেল’-এ আশ্রয় নিয়েছিলেন। রাধেশ্যামের ছেলে বিবেক, তাঁর স্ত্রী, দুই মেয়ে এবং পরিবারের অন্যান্য আত্মীয়রা বুধবার হোটেলের সেই অগ্নিকাণ্ডের কবলে পড়েন।
শনাক্তকরণের করুণ কাহিনী আগুন লাগার খবর পাওয়ার পর বিবেকের শ্যালিকা স্বাতী এবং অন্য এক আত্মীয় ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁদের উদ্ধারের আপ্রাণ চেষ্টা করেন। বিবেককে হোটেল থেকে টেনে বের করে সিপিআর (CPR) দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। পরিবারের আরেক সদস্য তর্জনি, যিনি পেশায় ইভেন্ট ম্যানেজার এবং প্রাক্তন বিউটি কুইন ছিলেন, তাঁর দেহ এতটাই পুড়ে গিয়েছিল যে, শেষ পর্যন্ত গয়না দেখে তাঁকে শনাক্ত করতে হয়।
অভিযোগের আঙুল পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, অগ্নিকাণ্ডের সময় বিবেক ফোন করে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছিলেন, কিন্তু দমকলের ইঞ্জিন পৌঁছাতে ৪৫ মিনিটের বেশি সময় লেগে যায়। সংকীর্ণ রাস্তার দোহাই দিয়ে বিলম্বের অভিযোগ করা হলেও দিল্লির দমকল বিভাগ তা অস্বীকার করেছে।
ঘটনার করুণ পরিহাস হলো, যারা দুর্ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগেই ফিরে যাওয়ার কথা ছিল, তারাও বাকিদের অনুরোধে থেকে গিয়ে প্রাণ হারালেন। বর্তমানে ম্যাক্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাধেশ্যাম আগরওয়ালকে এখনও তাঁর পরিবারের ৮ সদস্যের মৃত্যুর কথা জানানো হয়নি।
এই ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং ২ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দিল্লির সমস্ত হোটেল ও বহুতল ভবনে অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শনের কাজ শুরু হয়েছে।