গরমে কোল্ড ড্রিংকস ভুলে যান! শরীর ঠান্ডা রাখতে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে ভরসা রাখুন এই দেশি পানীয়গুলিতে

প্রচণ্ড রোদ আর প্যাচপ্যাচে গরম! এই সময়ে শরীরকে চাঙ্গা রাখতে অনেকেই দোকান থেকে কেনা দামি কোল্ড ড্রিংকস বা প্যাকেটজাত পানীয়ের ওপর ভরসা করেন। কিন্তু স্বাস্থ্যের পক্ষে সেগুলি কতটা উপকারী? সম্প্রতি ‘মন কি বাত’-এর ১৩৪তম পর্বে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আমাদের সেই পুরোনো খাদ্য ঐতিহ্যের দিকেই ফিরে যাওয়ার বার্তা দিয়েছেন। তিনি জোর দিয়েছেন গ্রামবাংলার সেই দেশি পানীয়ের ওপর, যা শুধু তৃষ্ণা মেটায় না, শরীরকেও রাখে ভিতর থেকে ঠান্ডা।
গ্রীষ্মে ম্যাজিকের মতো কাজ করে এই ৯ পানীয়:
বাটারমিল্ক: ভারী দুপুরের খাবারের পর এক গ্লাস বাটারমিল্ক পেট হালকা রাখে এবং শরীরকে শীতল করতে সাহায্য করে।
লস্যি: উত্তর ভারতের অত্যন্ত জনপ্রিয় এই পানীয় শরীরকে দীর্ঘক্ষণ সতেজ রাখে। মিষ্টি হোক বা নোনতা—আপনার পছন্দমতো উপভোগ করতে পারেন।
ছাতু শরবত: বিহার ও ঝাড়খণ্ডের জনপ্রিয় পানীয়। ভাজা ছোলার গুঁড়ো থেকে তৈরি এই শরবত শুধু শরীরকে শক্তিই দেয় না, পেটও অনেকক্ষণ ভরা রাখে।
আম পান্না: কাঁচা আমের মিষ্টি-টক স্বাদের এই পানীয় গরমে অস্থির শরীরকে মুহূর্তেই স্বস্তি দেয়।
বেলের শরবত: গরমকালে বেল শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে অত্যন্ত কার্যকর।
কোকুম শরবত: মহারাষ্ট্র ও গোয়ার এই জনপ্রিয় পানীয়টি তীব্র গরমে দারুণ সতেজতা প্রদান করে।
সাম্বর: এটি কেরালা অঞ্চলের এক বিশেষ মশলাদার বাটারমিল্ক, যা গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় শরীরকে ঠান্ডা রাখে।
পানকম: গুড়, জল ও মশলা দিয়ে তৈরি এই পানীয় দক্ষিণ ভারতের মানুষের কাছে গ্রীষ্মের পরম বন্ধু।
নীর মোর: দই ও ঐতিহ্যবাহী মশলার মিশ্রণে তৈরি দক্ষিণ ভারতের এই মশলাদার বাটারমিল্ক শরীরকে দেয় অসামান্য আরাম।
কেন এই পানীয়গুলি সেরা?
প্রধানমন্ত্রী মোদীর কথায়, এগুলি কেবল তৃষ্ণা মেটানোর মাধ্যম নয়, এগুলি ভারতের সমৃদ্ধ খাদ্য ঐতিহ্যের পরিচয়। এই পানীয়গুলির সবচেয়ে বড় গুণ হলো—এগুলি স্থানীয় উপাদানে তৈরি, অতি সহজলভ্য এবং কোনো রাসায়নিক ছাড়াই শরীরকে রাখে সুস্থ।
এই গরমে কেমিক্যালযুক্ত পানীয়ের বদলে নিজের রুটিনে এই দেশি শরবতগুলিকে জায়গা দিন। দেখবেন, শরীর আর মন দুইই থাকবে ফুরফুরে!