শুভেন্দুর বৈঠকে ফিরহাদের বক্তৃতা, নোট নেওয়ার নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর! কী ঘটছে বাংলার রাজনীতিতে?

বাংলার দ্রুত পরিবর্তনশীল রাজনৈতিক সমীকরণে এবার শিরোনামে ফিরহাদ হাকিম। একদিকে তাঁর পদত্যাগের জল্পনা, অন্যদিকে নবান্নের প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁর সৌজন্য ও আলোচনা—সব মিলিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তুঙ্গে জল্পনা।
ইস্তফা কি সময়ের অপেক্ষা?
বুধবার বিকেলে ফিরহাদ হাকিমের ইস্তফা নিয়ে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লেও, তিনি নিজে তা অস্বীকার করেছেন। তবে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, তিনি পদত্যাগ না করলেও, খুব শীঘ্রই হয়তো সেই পথে হাঁটতে পারেন।
নবান্নে ‘মেয়র সাহেব’ ও শুভেন্দুর সৌজন্য
সবচেয়ে নাটকীয় মোড় আসে বুধবার নবান্নের প্রশাসনিক বৈঠকে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ উপেক্ষা করেই ফিরহাদ হাকিম যোগ দেন সেই বৈঠকে। বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁকে ‘মেয়র সাহেব’ বলে সম্বোধন করেন এবং তাঁকে বিধায়কদের আসন থেকে সরিয়ে মন্ত্রীদের পাশে বসার সম্মানজনক জায়গা করে দেন। শুধু তাই নয়, ফিরহাদকে কথা বলার সুযোগও দেন মুখ্যমন্ত্রী। হাওড়ায় গঙ্গার তলায় টানেল ও মেট্রোপলিটন-নিউটাউন ফ্লাইওভার নিয়ে ফিরহাদের প্রস্তাবগুলি দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের ‘নোট’ করার নির্দেশও দেন শুভেন্দু। পাশাপাশি শহরের বেআইনি নির্মাণ রেগুলারাইজ করার বিষয়েও ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
মমতার ক্ষোভ ও কালীঘাটের দূরত্ব
বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে চা খাওয়ার আমন্ত্রণ জানালেও, কাজ থাকার অজুহাতে বেরিয়ে যান ফিরহাদ। তিনি কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে না গিয়ে সোজা চলে যান কলকাতা পুরনিগমে। এই ঘটনাতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন বলে তৃণমূল সূত্রে খবর। সূত্রের দাবি, কেন তিনি নবান্নের প্রশাসনিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, তা নিয়ে দলনেত্রী তাঁকে ফোন করে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য, এই প্রশাসনিক বৈঠকে কলকাতা, হাওড়া ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার তৃণমূলের ২৮ জন বিধায়ক উপস্থিত ছিলেন। যার মধ্যে ফিরহাদ হাকিম ছাড়াও উল্লেখযোগ্য নাম ছিল নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় ও কুণাল ঘোষের। কিন্তু ফিরহাদের নবান্নে উপস্থিতি ও শুভেন্দুর সঙ্গে তাঁর সরাসরি আলোচনা শাসকদলের অন্দরে বড় কোনো ফাটলের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।