TMC-র বহিষ্কৃত হয়েও বিরোধী দলনেতা হতে পারেন কি ঋতব্রত? জেনেনিন বিস্তারিত

১৫ বছরের দীর্ঘ শাসনকাল। কিন্তু একটি মাত্র নির্বাচনে পরাজয় আর তারপরই যেন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক সাম্রাজ্য। তৃণমূলের অন্দরে বিধায়ক পর্যায়ে যে প্রবল বিদ্রোহ দানা বেঁধেছিল, তা চূড়ান্ত রূপ নিল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহার উত্থানে। বর্তমানে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে দলের নিয়ন্ত্রণ কার্যত চলে গিয়েছে বিদ্রোহী বিধায়কদের হাতে।
মমতার হাত থেকে তৃণমূলের দখল নিলেন কারা? প্রথমবার বিধানসভা নির্বাচনে জিতে আসা তরুণ বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা—যাঁদের একসময় দল থেকে বহিষ্কার করেছিলেন মমতা—এখন তাঁদের নেতৃত্বেই তৃণমূলের সংখ্যাগরিষ্ঠ পরিষদীয় দল গঠিত হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা দলীয় বৈঠক বা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাঠানো চিঠির আর কোনো সাংবিধানিক গুরুত্বই অবশিষ্ট নেই। ৬০ জন বিধায়কের সমর্থনে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এখন রাজ্যের বিধানসভার স্বীকৃত বিরোধী দলনেতা।
আইন কী বলছে? কেন বহিষ্কৃত হয়েও ঋতব্রতরা তৃণমূলের ওপর কর্তৃত্ব ফলাতে পারছেন? এই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক বিশ্বনাথ চক্রবর্তী। তিনি ব্যাখ্যা করেন, “অ্যান্টি ডিফেকশন ল বা দলত্যাগ বিরোধী আইন অনুযায়ী, ঋতব্রতরাই এখন সংখ্যাগরিষ্ঠ। দল হিসেবে তৃণমূল কংগ্রেসের মূল কর্তৃত্ব এখন তাদের হাতেই। বিধানসভার বিধায়কদের পরিষদীয় দল থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন কার্যত বিচ্ছিন্ন। সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ যেহেতু ঋতব্রতদের হাতে, তাই নির্বাচন কমিশনও এই বাস্তবতাকে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য।”
সংকট ও অনিশ্চয়তায় মমতা বিধানসভায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাঠানো চিঠিকে পাত্তা না দিয়েই স্পিকার বিদ্রোহী বিধায়কদের মূল তৃণমূল হিসেবে মান্যতা দিয়েছেন। ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন দলের ভেতরেই রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা।
রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূলের অন্দরে এই ক্ষমতার হস্তান্তর কেবল বিধায়কদের দলবদল নয়, বরং এটি একটি সুসংগঠিত বিদ্রোহ, যা তৃণমূলের চিরাচরিত কাঠামোকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি নিজের দল পুনরুদ্ধার করতে পারবেন, নাকি তৃণমূল এখন পাকাপাকিভাবে ঋতব্রত-সন্দীপনদের অধীনে চলে গেল? সেই উত্তরই এখন খুঁজছে বাংলার রাজনীতি।