‘সরি, মা-বাবা, আবার NEET দেওয়ার সাহস নেই…’, প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে আত্মঘাতী তরুণী

ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন আকাঙ্ক্ষা চতুর্বেদী। সেই স্বপ্নকে বাস্তব রূপ দিতে দিনরাত এক করে পড়াশোনা করেছিলেন। কিন্তু নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত তাঁর জীবনে ডেকে আনল চরম বিপর্যয়। অবসাদের বশবর্তী হয়ে শেষ পর্যন্ত সিলিং ফ্যানে ঝুলে আত্মঘাতী হলেন মধ্যপ্রদেশের মৌগঞ্জ জেলার এই মেধাবী ছাত্রী।

ঋণ করে পড়াশোনা, তবুও অধরা স্বপ্ন আকাঙ্ক্ষার পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র। পেশায় কৃষক পিতা কৃষ্ণ কুমার চতুর্বেদী মেয়ের স্বপ্নপূরণে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়েছিলেন। কিষান ক্রেডিট কার্ড থেকে ৩ লক্ষ টাকা ঋণ নিয়ে মেয়েকে নাগপুরের একটি নামী কোচিং সেন্টারে ভর্তি করেছিলেন তিনি। এমনকি মেয়ের পড়াশোনার খরচ জোগাতে তিনি নিজে রান্নার কাজও শুরু করেছিলেন। পরিবারের আশা ছিল, মেয়ে ডাক্তার হয়ে সংসারের হাল ধরবে। কিন্তু প্রশ্নফাঁসের জেরে পরীক্ষা বাতিল হওয়ায় সেই আশায় জল পড়ে।

সুইসাইড নোটে কান্নার রোল ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া সুইসাইড নোটে আকাঙ্ক্ষা নিজের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরেছেন। তিনি লিখেছেন, “সরি মা-বাবা, তোমরা ভেবেছিলে তোমাদের মেয়ে ডাক্তার হবে। কিন্তু আমার আর নতুন করে নিট দেওয়ার সাহস নেই। আমি তোমাদের দুজনের জীবন নষ্ট করে দিয়েছি। পরের বার যে ভালো ফল করতে পারব, তার কোনো গ্যারান্টি নেই।”

পরীক্ষা বাতিল ও পরিবারের অভিযোগ পরিবারের সদস্যদের দাবি, নিট পরীক্ষায় ৬৫০ নম্বর পাওয়ার আশা ছিল আকাঙ্ক্ষার। পরীক্ষার পর প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে এনটিএ (NTA) পরীক্ষা বাতিল করার পর থেকেই তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। এই তীব্র অবসাদই তাঁকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দিয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের।

উল্লেখ্য, গত ৩ মে আয়োজিত নিট-ইউজি ২০২৬ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ওঠার পর থেকেই উত্তাল গোটা দেশ। গত ১৩ মে পরীক্ষা বাতিলের ঘোষণা করে এনটিএ। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় মূলচক্রীসহ ১৩ জনকে গ্রেফতার করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। একের পর এক দুর্নীতি ও পরীক্ষা বাতিলের জেরে যখন দেশজুড়ে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে, তখনই আকাঙ্ক্ষার মতো এমন মর্মান্তিক পরিণতি শোকের ছায়া ফেলেছে শিক্ষা মহলে।