সামাজিক বিয়ের চেয়ে কি আইনি বিয়ে সাশ্রয়ী? জানুন কোর্ট ম্যারেজের খরচ ও খুঁটিনাটি!

বর্তমান সময়ে জাঁকজমকপূর্ণ সামাজিক বিয়ের বদলে অনেক দম্পতিই আইনি বিয়ের বা কোর্ট ম্যারেজের পথ বেছে নিচ্ছেন। স্বচ্ছ আইনি প্রক্রিয়া এবং সরকারি রেকর্ডে বিয়ের দ্রুত নথিবদ্ধকরণের সুবিধাই এর প্রধান কারণ। অনেকেই আইনি বিয়ের খরচ ও প্রক্রিয়া নিয়ে ধন্দে থাকেন। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী গৌতম সিং-এর পরামর্শ অনুযায়ী বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
কোর্ট ম্যারেজের প্রক্রিয়া: আইনি বিয়ের জন্য সরাসরি ম্যারেজ রেজিস্ট্রার বা ডেপুটি রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে আবেদন করতে হয়। মনে রাখবেন, সরাসরি আদালতে এসে বিয়ে করলেও, আগে সামাজিক রীতিনীতি (যেমন—মন্দিরে বিয়ে বা কাজীর উপস্থিতিতে নিকাহ) সম্পন্ন করে তার প্রমাণপত্র জমা দেওয়া আবশ্যক।
-
সতর্কতা: মন্দিরে বিয়ের ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে মন্দিরটি যেন নিবন্ধিত হয় এবং তারা যেন বিয়ের শংসাপত্র (Certificate) প্রদান করে। শংসাপত্র না থাকলে পুরোহিতের স্বাক্ষর, হাতে লেখা প্রমাণপত্র এবং বিয়ের ছবি ও ভিডিও অবশ্যই প্রমাণ হিসেবে রাখতে হবে।
কত খরচ হতে পারে? সরকারি ফি খুব সামান্য হলেও আইনজীবীর সহায়তা ও কাগজপত্রের জন্য মোট খরচ কিছুটা বাড়তে পারে।
-
আবেদনপত্র ও দাপ্তরিক ফি: ১০০ থেকে ১৫০ টাকা।
-
রেজিস্ট্রেশন ও সার্টিফিকেট ফি: ১০০ থেকে ৩০০ টাকা।
-
হলফনামা, স্ট্যাম্প পেপার ও নোটারি: ৩০০ থেকে ১৫০০ টাকা।
-
সার্বিক খরচ: সমস্ত সরকারি প্রক্রিয়া নিজে করলে খরচ প্রায় ২,০০০ টাকার আশেপাশে থাকে। তবে আইনজীবী নিয়োগ করলে এবং আনুষঙ্গিক কাজের জন্য মোট খরচ ২,০০০ থেকে ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
আবেদনের গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম: ১. বাসস্থানের শর্ত: বর বা কনের মধ্যে অন্তত একজনকে আবেদনকারী জেলাতে টানা ৩০ দিন বসবাস করতে হবে। ২. বিজ্ঞপ্তি (Notice): বিবাহ কর্মকর্তা বা এসডিএম অফিসে ‘বিবাহের বিজ্ঞপ্তি’ জমা দেওয়ার পর তা নোটিশ বোর্ডে টাঙিয়ে দেওয়া হয়। ৩. আপত্তি সময়কাল: বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে কেউ আইনি আপত্তি জানাতে পারেন। কোনো আপত্তি না এলে, এরপর তিনজন সাক্ষীসহ বিবাহ কর্মকর্তার সামনে হাজির হতে হয়। ৪. ঘোষণা ও সার্টিফিকেট: দম্পতি ও সাক্ষীদের স্বাক্ষরের পর বিবাহ কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিক ম্যারেজ সার্টিফিকেট প্রদান করেন, যা বিবাহের চূড়ান্ত আইনি প্রমাণ।
প্রয়োজনীয় নথি:
-
বর ও কনের পরিচয়পত্র (যেমন—আধার বা ভোটার কার্ড)।
-
ঠিকানার প্রমাণপত্র।
-
জন্ম তারিখের প্রমাণ।
-
বিবাহের প্রমাণপত্র (যেমন—মন্দিরের শংসাপত্র বা নিকাহনামা)।
-
দুজন প্রাপ্তবয়স্ক ও মানসিকভাবে সুস্থ সাক্ষী।