“কোরবানির হাত থেকে রেহাই”-বাংলাদেশের চিড়িয়াখানায় AC রুম পেল ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতোই ঢেউ খেলানো সোনালি চুল আর চোখের চাহনি—সব মিলিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো সেলিব্রিটি হয়ে উঠেছিল নারায়ণগঞ্জের রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মের সেই অ্যালবিনো মহিষ। বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে থাকা এই মহিষটি এখন কোরবানির বদলে ঠাঁই পেয়েছে মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানায়।
কেন এই বিশেষ ব্যবস্থা?
ইদ-উল-আযহার দিন এই মহিষটিকে কোরবানি দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সরকারি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি বদলে যায়। বিরল প্রজাতির এই প্রাণীটি যাতে বিলুপ্ত না হয় এবং তাকে সঠিক সুরক্ষা দেওয়া যায়, সেই উদ্দেশ্যেই মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর নির্দেশে এটিকে সরকারি হেফাজতে নেওয়া হয়। বর্তমানে তাকে মিরপুর চিড়িয়াখানার ‘এল-০৭’ খাঁচায় বিশেষ যত্নে রাখা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মত ও পরিচর্যা
প্রাণিসম্পদ দফতরের বিশেষজ্ঞদের মতে, মহিষটির শরীরে ‘মেলানিন’ নামক রঞ্জক পদার্থের অভাবেই এমন গোলাপি বা সোনালি আভা দেখা যায়। পরিসংখ্যান বলছে, প্রতি ১০ হাজার মহিষের মধ্যে মাত্র একটি এ ধরনের বিরল অ্যালবিনো বৈশিষ্ট্য নিয়ে জন্মায়। তাই এটিকে কেবল একটি প্রাণী হিসেবে নয়, বরং জীববৈচিত্র্য রক্ষার ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ সরকার।
চিড়িয়াখানা সূত্রে খবর, প্রতিদিন তাকে ২৫ কেজি নেপিয়ার ঘাস ও ৫ কেজি ছোলার ভুসি খেতে দেওয়া হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে তাকে দিনে ২-৩ বার স্নান করানো হচ্ছে এবং সার্বক্ষণিক চিকিৎসা ও পরিচর্যার জন্য বিশেষ দল নিযুক্ত করা হয়েছে।
কিভাবে হলো ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’? নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ার খামারি জিয়াউদ্দিন মৃধার পোষ্য এই মহিষের চুল ও চোখের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্টের অদ্ভুত মিল থাকায় মালিকের ভাই আদর করে এর নাম রাখেন ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। ৭০০ কেজি ওজনের এই মহিষটি ৩ লক্ষ ৮৫ হাজার টাকায় বিক্রিও হয়েছিল। তবে খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্টের নামাঙ্কিত এই মহিষের ভাগ্য যে শেষ পর্যন্ত চিড়িয়াখানার ভিআইপি জোনে লেখা ছিল, তা হয়তো কেউ ভাবেননি। এখন মিরপুর চিড়িয়াখানায় এই ‘ভিআইপি’ মহিষকে এক নজর দেখার জন্য দর্শকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।