বিদ্যুতের দাম কি বাড়ছে? কেন আবার সন্ধ্যায় দোকানপাট বন্ধের নির্দেশ? জেনে নিন কারণ

তীব্র দাবদাহে রাজ্যে বিদ্যুতের চাহিদা এখন তুঙ্গে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তার ওপর আবার সন্ধ্যায় দোকানপাট বন্ধ রাখার সরকারি নির্দেশের গুঞ্জন শুরু হয়েছে। কেন এই কঠোর পদক্ষেপ? নেপথ্যে রয়েছে বিদ্যুৎ ঘাটতির আশঙ্কা।
কেন বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির আভাস? বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থাগুলোর দাবি, গরমকালে বিদ্যুতের চাহিদা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে। কোল ইন্ডিয়া থেকে কয়লা সরবরাহ এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের আনুষঙ্গিক ব্যয় বাড়ায় সংস্থাগুলো লোকসান কমানোর জন্য ট্যারিফ বা বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর আবেদন জানিয়েছে বলে সূত্র মারফত খবর। যদিও রাজ্য সরকার এখনো এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি, তবুও দাম বাড়ার সম্ভাবনায় জনমনে উদ্বেগ বেড়েছে।
সন্ধ্যায় দোকানপাট বন্ধের নেপথ্যে কী? বিদ্যুতের চাহিদা ও জোগানের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতেই মূলত এই উদ্যোগ। রাজ্যের বিদ্যুৎ দপ্তরের অন্দরমহলের খবর অনুযায়ী:
-
পিক আওয়ার ম্যানেজমেন্ট: সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা (Peak Demand) থাকে। এই সময়ে শিল্পকারখানা বা বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে পারলে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ কমানো সম্ভব।
-
গ্রিডের ওপর চাপ হ্রাস: অত্যাধিক এসির ব্যবহার এবং বাণিজ্যিক আলোকসজ্জার কারণে গ্রিডের ওপর প্রবল চাপ পড়ছে। এই চাপ কমাতে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত বন্ধ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
ব্যবসা ও অর্থনীতির ওপর প্রভাব: ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো এই নির্দেশে কিছুটা আশঙ্কিত। তাদের মতে, সন্ধ্যার এই সময়টিই ব্যবসার জন্য প্রধান সময়। তবে বিদ্যুৎ দপ্তরের আধিকারিকদের বক্তব্য, যদি নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পরিষেবা বজায় রাখতে হয়, তবে সাময়িকভাবে এই ধরনের সাশ্রয়ী পদক্ষেপ নেওয়া ছাড়া উপায় নেই।
উপসংহার: বিষয়টি এখনো পর্যন্ত নির্দেশনার পর্যায়ে থাকলেও, এর বাস্তবায়ন হলে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি অনেকটা স্থিতিশীল হতে পারে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। তবে চূড়ান্ত ঘোষণার জন্য রাজ্য সরকারের বিদ্যুৎ দপ্তরের অফিসিয়াল নোটিফিকেশনের অপেক্ষায় রয়েছে সাধারণ মানুষ।