মমতার ধর্নায় কার দাপট বেশি? ‘দিদি’ বনাম ‘অভিষেক’ লবি নিয়ে তুঙ্গে জল্পনা!

রাজনীতির ময়দানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্না ও প্রতিবাদ মানেই এক শক্তিশালী বার্তা। কিন্তু সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মমতার প্রতিটি ধর্না মঞ্চ যেন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসছে নতুন এক সমীকরণকে কেন্দ্র করে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দাবি, দলের কর্মসূচিতে এখন মমতা-ঘনিষ্ঠদের পাশাপাশি ‘অভিষেক-পন্থী’ নেতাদের উপস্থিতিই নজর কাড়ছে বেশি। আর এই উপস্থিতি ঘিরেই রাজ্য রাজনীতির অন্দরে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা— তবে কি ধীরে ধীরে পাল্টাচ্ছে তৃণমূলের সাংগঠনিক চালচিত্র?

দীর্ঘদিন ধরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রের বিভিন্ন জনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে ধর্নাকে হাতিয়ার করে এসেছেন। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সেই ধর্না মঞ্চে ভিড় করা মুখগুলোও বদলেছে। সূত্রের খবর, সম্প্রতি দলের প্রতিটি বড় কর্মসূচিতে অভিষেকের অনুগতদের সক্রিয়তা আগের তুলনায় অনেকটাই বেশি। যা নিয়ে দলের অন্দরে একদিকে যেমন উচ্ছ্বাস রয়েছে, অন্যদিকে প্রবীণ ও নবীন নেতাদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারের এক নীরব লড়াইয়ের ইঙ্গিতও মিলছে।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, মমতার ছায়া থেকে বেরিয়ে এসে দলীয় সংগঠনের ওপর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার এটি একটি অংশ। আবার অন্য পক্ষের দাবি, দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই মমতা নিজে এই পরিবর্তনের সুযোগ করে দিচ্ছেন।

মমতার ধর্না মানেই এতদিন ছিল একাধিপত্য, কিন্তু এখন সেই মঞ্চেই কি তবে ‘উত্তরাধিকার’ রাজনীতির নতুন পাঠ চলছে? উত্তর খুঁজছে বঙ্গ রাজনীতি। তবে ঘটনা যাই হোক, তৃণমূলের অন্দরের এই ‘লবি-যুদ্ধ’ যে আগামী দিনের নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে, তা বলাই বাহুল্য।