পাটনার হোস্টেলে নিট পরীক্ষার্থীর ঝুলন্ত দেহ! প্রেমঘটিত সম্পর্কের জের? চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে

বিহারের রাজধানী পাটনার জার্নালিস্ট নগরের একটি হোস্টেল থেকে এক ছাত্রীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃত ছাত্রীর নাম শ্রুতি কুমারী (২০), যিনি সমস্তিপুরের বাসিন্দা। তিনি পাটনায় থেকে নিট (NEET) পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। মঙ্গলবার সকালে হোস্টেলের নিজ ঘর থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
কী ঘটেছিল সেই রাতে?
হোস্টেল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে স্বাভাবিকভাবেই রাতের খাবার খেয়ে নিজের ঘরে ঘুমোতে গিয়েছিলেন শ্রুতি। হোস্টেলের মালিক আভা সিং জানান, শ্রুতি বরাবরই অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের ছিলেন। কিন্তু মঙ্গলবার সকাল অনেক হয়ে গেলেও তিনি ঘর থেকে না বের হওয়ায় পাশের রুমের সহপাঠীদের সন্দেহ হয়। তারা বারবার ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া পাননি। পরে দরজা ভেঙে দেখা যায়, সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলছেন শ্রুতি।
প্রেমঘটিত সম্পর্কের ছায়া?
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, শ্রুতির আত্মহত্যার পেছনে একটি যুবকের নাম উঠে আসছে। অভিযোগ, ওই যুবকের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনেই সম্ভবত মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন শ্রুতি। যদিও বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিত হওয়ার জন্য পুলিশ তার মোবাইল ফোনটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছে।
স্বপ্নভঙ্গের শোক
শ্রুতির পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তার মা একজন শিক্ষিকা এবং বাবা একজন কৃষক। খুব কষ্ট করে মেয়েকে বড় স্বপ্ন নিয়ে পাটনায় পড়াতে পাঠিয়েছিলেন তাঁরা। দ্বাদশ শ্রেণির গণ্ডি পেরোনোর পর শ্রুতি আইন নিয়ে পড়াশোনার স্বপ্ন দেখছিলেন এবং একইসঙ্গে নিট পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সম্প্রতি গ্রাম থেকে পাটনায় ফিরেছিলেন তিনি।
পুলিশি তদন্ত
খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। কোনো সুইসাইড নোট উদ্ধার না হলেও, ফরেনসিক টিমকে তলব করে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। পাটনার ওই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, “আমরা সব দিক খতিয়ে দেখছি। পরিবারের সদস্যরা পাটনায় পৌঁছালে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমেই মৃত্যুর আসল কারণ স্পষ্ট হবে।”
তরুণী এই ছাত্রীর অকাল মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে তার সহপাঠী ও পরিবারে। উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখা একটি তাজা প্রাণ কেন এমন চরম পথ বেছে নিল, তা নিয়ে এখন নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।