মেসি-রোনালদোর মহাকাব্যিক রেকর্ড! ফিফা বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে সেরা ১০ ফুটবলার কে কে?

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে। ১২ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া এই ২৩তম আসরে চোখ থাকবে বিশ্ব ফুটবলের দুই মহাতারকা লিওনেল মেসি এবং ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দিকে। ফুটবল ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে নতুন ইতিহাস গড়ার হাতছানি তাঁদের সামনে। তবে বিশ্বকাপ ফুটবলের ৯৬ বছরের গৌরবময় ইতিহাসে এমন আরও অনেক কিংবদন্তি রয়েছেন, যাঁদের জাদুকরী পারফরম্যান্স ফুটবলকে বিশ্বজনীন রূপ দিয়েছে।
চলুন জেনে নেওয়া যাক ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসের সেরাদের তালিকায় থাকা ১০ মহাতারকা সম্পর্কে:
১. পেলে (ব্রাজিল): ‘ব্ল্যাক পার্ল’ খ্যাত পেলে মাত্র ১৭ বছর বয়সে ১৯৫৮ সালে বিশ্বকাপে অভিষেক করেন এবং চ্যাম্পিয়ন হন। ফুটবল ইতিহাসে একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপ জেতার রেকর্ড তাঁর দখলে। ৯২ ম্যাচে ৭৭ গোল করে তিনি ব্রাজিলের সর্বোচ্চ গোলদাতা।
২. দিয়েগো মারাদোনা (আর্জেন্টিনা): ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপ জয়ী আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। ড্রিবলিং জাদুতে বিশ্বকে মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখা এই কিংবদন্তি মোট চারটি বিশ্বকাপে প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
৩. ইয়োহান ক্রুইফ (নেদারল্যান্ডস): ১৯৭৪ বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসকে ফাইনালে তোলার মূল কারিগর ছিলেন তিনি। ক্রুইফ গোল করেছেন—এমন কোনো ম্যাচে নেদারল্যান্ডস কখনো হারেনি। ৪৮টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে তার নামের পাশে ৩৩ গোল।
৪. ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার (পশ্চিম জার্মানি): ‘ডার কাইজার’ খ্যাত এই ডিফেন্ডার ১৯৭৪ বিশ্বকাপ জয়ী দলের অধিনায়ক ছিলেন। রক্ষণভাগে দাঁড়িয়েও ১০৩ ম্যাচে ১১৪ গোল করার রেকর্ড আজও বিস্ময়কর। ১৯৯০ বিশ্বকাপ জয়েও তিনি অনন্য ভূমিকা রাখেন।
৫. রোনালদো নাজারিও (ব্রাজিল): গতি ও নিখুঁত ফিনিশিংয়ের জন্য পরিচিত এই ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার ১৯৯৪ বিশ্বকাপ জয়ী দলের সদস্য ছিলেন। ৯৮ ম্যাচে ৬২ গোল করা রোনালদো ফুটবলের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার হিসেবে বিবেচিত।
৬. মিরোস্লাভ ক্লোসা (জার্মানি): ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা (১৬ গোল)। জার্মানির হয়েও তিনি সর্বোচ্চ গোল করার রেকর্ডধারী।
৭. লোথার ম্যাথাউস (জার্মানি): পাঁচটি বিশ্বকাপে খেলার অনন্য রেকর্ড রয়েছে তাঁর। ১৫০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা এই কিংবদন্তি ১৯৯০ সালে পশ্চিম জার্মানিকে বিশ্বকাপ জেতাতে নেতৃত্ব দেন এবং তিনিই একমাত্র জার্মান খেলোয়াড় যিনি ফিফা বর্ষসেরা খেতাব জিতেছেন।
৮. ফেরেন্স পুসকাস (হাঙ্গেরি): হাঙ্গেরির এই কিংবদন্তি অধিনায়ক তাঁর ক্যারিয়ারে ৮৫টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ৮৪টি গোল করে এক অবিশ্বাস্য পরিসংখ্যান গড়ে গেছেন।
৯. জিমি গ্রিভস (ইংল্যান্ড): ১৯৬২ বিশ্বকাপে খেলা এই তুখোড় ইংরেজ স্ট্রাইকার মাঠের ভেতর কুকুর উদ্ধার করে শিরোনামে এলেও, ফুটবল মাঠে তাঁর গোলক্ষুধা ছিল সর্বজনবিদিত।
১০. জিনেদিন জিদান (ফ্রান্স): ১৯৯৮ বিশ্বকাপ জয়ী ফ্রান্সের মহানায়ক। ফাইনালে জোড়া গোল করা থেকে শুরু করে ২০০৬ বিশ্বকাপে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় (গোল্ডেন বল)—জিদান ছিলেন আভিজাত্যের প্রতীক।
ফুটবল বিশ্বকাপের এই দীর্ঘ যাত্রায় এঁদের একেকজন একেকভাবে ইতিহাস গড়েছেন। ২০২৬ বিশ্বকাপে মেসি ও রোনালদোর হাত ধরে নতুন কোনো ইতিহাস রচিত হয় কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।