ধর্মতলায় তৃণমূলের ধর্না ঘিরে নাটকীয় পরিস্থিতি! মমতা কি আসবেন? তৈরি ধোঁয়াশা

মঙ্গলবার ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলে তৃণমূল কংগ্রেসের হাই-ভোল্টেজ ধর্না কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দুপুর থেকেই তৈরি হয়েছে এক নজিরবিহীন নাটকীয় পরিস্থিতি। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী পুলিশি অনুমতি মিললেও, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্নায় যোগদান নিয়ে দলের অন্দরেই দেখা দিয়েছে বড়সড় ধোঁয়াশা।
কী ঘটছে ওয়াই চ্যানেলে?
প্রশাসন সূত্রে খবর, মঙ্গলবার দুপুর ২টো থেকে বিকেল ৫টা—এই তিন ঘণ্টার জন্য কলকাতা পুলিশ তৃণমূলকে ওয়াই চ্যানেলে ধর্না প্রদর্শনের লিখিত অনুমতি দিয়েছে। পুলিশের এই সবুজ সংকেত পাওয়ার পরই চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো দলের হেভিওয়েট নেতারা সভাস্থলে পৌঁছে যান। কিন্তু ধর্না শুরুর নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর কালীঘাটের বাসভবন থেকে না বেরোনোয় জল্পনা তুঙ্গে। এমনকি সভাস্থলে সাধারণ কর্মী-সমর্থকদের ভিড়ও আশানুরূপ নয় বলে খবর।
পুলিশি অনুমতির জলঘোলা:
ভোট পরবর্তী সন্ত্রাসের অভিযোগে রানি রাসমণি অ্যাভিনিউতে ধর্নার ডাক দিয়েছিল তৃণমূল। কিন্তু সোমবার রাতে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ওই জায়গায় নয়, বরং ধর্না করতে হবে ওয়াই চ্যানেলে এবং তার জন্য নতুন করে আবেদন করতে হবে। এই নির্দেশের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিধায়ক কুণাল ঘোষ। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, “রাত সাড়ে ১২টায় ইমেল পাঠিয়ে বলা হচ্ছে ওয়াই চ্যানেলে অনুমতি নিতে। এটা কি সম্ভব? বিরোধীদের স্বর দমানোর জন্যই পুলিশ এমন কৌশল নিচ্ছে।”
কেন এই ধোঁয়াশা?
নেত্রী কি শেষ মুহূর্তে কর্মসূচি স্থগিত বা বাতিল করলেন? নাকি এটি দলের কোনো নতুন রাজনৈতিক রণকৌশলের অংশ? এই প্রশ্নই এখন রাজনৈতিক মহলে ঘুরপাক খাচ্ছে। শীর্ষ নেতৃত্ব সভাস্থলে উপস্থিত থাকলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপস্থিতি ধর্না কর্মসূচির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
এখন দেখার, বিকেল ৫টার মধ্যে নেত্রী সভাস্থলে পৌঁছান কি না, নাকি এই হাই-ভোল্টেজ ধর্না কর্মসূচি এক নিস্তেজ সমাপ্তিতে গিয়ে শেষ হয়।