‘আমদানি নয়, জনরায়’-এ জয়ী বিজেপি! তৃণমূল নেতাদের দলে নেওয়া নিয়ে স্পষ্ট বার্তা শমীকের

বিধানসভা নির্বাচনে ২০৭টি আসন নিয়ে ঐতিহাসিক জয়ের পর রাজ্যে এখন বিজেপির সরকার। সরকারের মেয়াদ মাত্র এক মাস পার হয়েছে, আর এরই মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ভাঙন শুরু হয়েছে। তৃণমূলের বহু নেতা-কর্মী এখন বিজেপির দিকে ভিড়তে চাইছেন বলে খবর। তবে এই জল্পনায় জল ঢেলে রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, তৃণমূলের কারও জন্য বিজেপির দরজা খোলা নেই।
কেন তৃণমূলকে নিতে নারাজ বিজেপি?
সোমবার দিল্লিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “আমাদের দরজা তৃণমূলের জন্য পুরোপুরি বন্ধ। আমরা কাউকে আমদানি করে ২০৭ আসনে পৌঁছাইনি। জনগণ তৃণমূলের নেতাদের বিরুদ্ধেই ভোট দিয়েছে।”
কেন বিজেপি তৃণমূলের নেতাদের দলে নিতে চাইছে না, তার ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি আরও বলেন, “আমাদের রাজনৈতিক কৌশল শুরু হয়েছে একেবারে তৃণমূল স্তর থেকে। যে সমস্ত নেতাদের গায়ে দুর্নীতির দাগ লেগে আছে, তাদের আমরা দলে নেব কী করে? বিজেপির তৃণমূলীকরণ কখনোই হবে না।” অর্থাৎ, দলের নীতি ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন।
রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শমীক ভট্টাচার্যের এই বিবৃতি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সম্প্রতি তাঁরই একটি মন্তব্যে ‘কিছু ভালো তৃণমূল’ আছে বলে ইঙ্গিত মেলায় জল্পনা শুরু হয়েছিল যে, হয়তো তৃণমূলের কিছু নেতা বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সুযোগ পাবেন। এরপর থেকেই শাসকদলের বহু নেতা ‘ভালো মানুষ’ সাজার প্রক্রিয়ায় নেমে পড়েছিলেন। কিন্তু আজকের এই স্পষ্ট ঘোষণায় সেই সব উৎসাহী নেতা-কর্মীদের আশা আপাতত ধূলিসাৎ হলো।
জনতার রায়ে জয়ী বিজেপি
শমীক ভট্টাচার্যের কথায়, এই জয় কোনো ‘আমদানি’ বা জোড়াতালি দেওয়া কৌশলের ফল নয়, বরং এটি বুথ স্তর থেকে জেলা পর্যায় পর্যন্ত বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির ফল। জনগণ তৃণমূলের শাসন থেকে মুক্তি চেয়েই বিজেপিকে এই বিপুল জনসমর্থন দিয়েছে। তাই দলবদলুদের জায়গা দিয়ে জনগণের রায়ের অমর্যাদা করতে বিজেপি নারাজ।
বিজেপির এই কঠোর অবস্থান কি তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ ভাঙন আরও ত্বরান্বিত করবে, নাকি নেতারা এখন অন্য কোনো পথ খুঁজবেন—সেদিকেই এখন নজর রয়েছে রাজ্য রাজনীতির।