বিষ্ণুপুরে ভাঙচুর: পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগে হাইকোর্টে তৃণমূল, নজর ৩রা জুনের শুনানিতে

বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রাজনৈতিক অস্থিরতার খবর সামনে আসছে। এবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত রাজনীতি। পুলিশের বিরুদ্ধে ‘নিষ্ক্রিয়তা’-র অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে শাসকদল।
হাইকোর্টে কেন গেল তৃণমূল?
তৃণমূলের অভিযোগ, নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরপরই বিষ্ণুপুরের বিষ্ণুপুর এলাকায় একদল দুষ্কৃতী তাদের দলীয় কার্যালয়ে হামলা চালায়। ভাঙচুর করা হয় আসবাবপত্র ও দলীয় সম্পত্তি। ঘটনার পরপরই বিষ্ণুপুর থানায় লিখিত অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও পুলিশ কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি বলে দাবি দলের আইনজীবীদের। তাঁদের অভিযোগ, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় এই ধরনের ঘটনা আরও বাড়ছে। তাই আদালতের নজরদারিতে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে হাইকোর্টের শরণাপন্ন হয়েছে তারা।
শুনানি ও আদালতের নজর
সূত্রের খবর, আগামী ৩রা জুন গ্রীষ্মকালীন অবকাশকালীন বেঞ্চে বিচারপতি স্মিতা দাস দে-র এজলাসে এই মামলার শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ঘটনার বিস্তারিত প্রমাণ, পুলিশের কাছে জমা দেওয়া অভিযোগপত্র এবং বর্তমান পরিস্থিতির নথি আদালতে পেশ করা হবে। রাজনৈতিক মহলের নজর এখন এই দিকেই—আদালত কি রাজ্য পুলিশের কাছে রিপোর্ট তলব করবে? নাকি অন্য কোনো নির্দেশ দেবে?
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বড় অভিযোগ
এই ঘটনার মধ্যেই তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেছেন, দলের একাধিক সাংসদ, বিধায়ক এবং নেতা-কর্মীদের পরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার ঘটনা থেকে শুরু করে বিধায়কদের হেনস্থা—সবই একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অংশ।” তাঁর অভিযোগ, তদন্তকারী সংস্থার নাম করে ভয় দেখানো এবং পরিবারের সদস্যদের হয়রানি করার মাধ্যমে তৃণমূলকে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে।
রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর
ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগ নিয়ে শাসক ও বিরোধী উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসার অভিযোগ তুলছে। ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ভাঙচুর ও সংঘর্ষের খবর আসায় আইন-শৃঙ্খলার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। হাইকোর্টে তৃণমূলের এই আইনি লড়াই এখন রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর কতটা প্রভাব ফেলে, সেটাই দেখার বিষয়।