বর্ষা কি দেরিতে? কেরালায় মৌসুমী বায়ু নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা, আশঙ্কায় দেশবাসী

দেশজুড়ে তীব্র দাবদাহের দাপট চলছে। এই পরিস্থিতিতে মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে বর্ষার প্রথম বৃষ্টির জন্য। প্রতি বছর ১ জুনের কাছাকাছি সময়ে কেরালা উপকূলে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর আগমনের মাধ্যমে ভারতে বর্ষাকালের সূচনা হয়। তবে এবছর মৌসুমী বায়ুর আগমন নিয়ে দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা।
বিলম্বের কারণ কী?
ইন্ডিয়া মেটিওরোলজিক্যাল ডিপার্টমেন্ট (IMD) জানিয়েছে, মৌসুমী বায়ু ঘোষণার জন্য নির্দিষ্ট তিনটি শর্ত—কেরালার ৬০ শতাংশ কেন্দ্রে একটানা বৃষ্টিপাত, নির্দিষ্ট গতিবেগের পশ্চিমা বায়ুপ্রবাহ এবং পর্যাপ্ত মেঘের উপস্থিতি—এখনও পুরোপুরি পূরণ হয়নি। কেরালা উপকূলের ওপর দিয়ে প্রবাহিত পশ্চিমা বায়ুপ্রবাহ বর্তমানে অত্যন্ত দুর্বল। এছাড়াও, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট একটি ঘূর্ণিঝড় পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে, যা মৌসুমী বায়ুর সুসংহত প্রবাহকে ব্যাহত করছে।
আশা ও শঙ্কা:
যদিও আবহাওয়াবিদরা আশা করছেন ১ জুন বা তার পরবর্তী সময়ে বায়ুপ্রবাহ শক্তিশালী হতে পারে, তবে পরিস্থিতির স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। আইএমডি-র নিয়ম অনুযায়ী, ৮ জুনের পর মৌসুমী বায়ু পৌঁছালে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বিলম্বিত’ হিসেবে গণ্য করা হবে। অর্থাৎ, বর্ষার আগমনে এখনও কিছুটা সময়ের সুযোগ (window) রয়েছে।
এল নিনো ও কম বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস:
এবারের বর্ষা মৌসুম নিয়ে আশঙ্কার অন্যতম বড় কারণ হলো শক্তিশালী ‘এল নিনো’ (El Nino) পরিস্থিতি। আইএমডি-র সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী:
২০২৬ সালে স্বাভাবিকের তুলনায় বৃষ্টিপাত কম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বর্ষাকালে মোট বৃষ্টিপাতের পরিমাণ দীর্ঘমেয়াদী গড়ের মাত্র ৯০ শতাংশ হতে পারে।
বিশেষ করে মধ্য ও দক্ষিণ ভারতে মৌসুমের দ্বিতীয়ার্ধে বৃষ্টিপাতের ঘাটতি দেখা দিতে পারে।
উল্লেখ্য, এপ্রিল মাসে আবহাওয়া অফিস ৯২ শতাংশ বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিলেও, বর্তমান এল নিনো পরিস্থিতির কারণে তা কমিয়ে ৯০ শতাংশ করা হয়েছে।
দেশজুড়ে মানুষ যখন তীব্র গরমে নাজেহাল, তখন বর্ষার এই বিলম্বিত বার্তা সাধারণ মানুষের উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে। গরম থেকে রেহাই পেতে এবং চাষাবাদের জন্য প্রয়োজনীয় বৃষ্টির আশায় এখন প্রকৃতির দিকে তাকিয়ে গোটা দেশ।