পহেলগাঁও হামলায় এবার হামাস যোগ? এনআইএ-র চার্জশিটে বিস্ফোরক তথ্য, তোলপাড় নিরাপত্তা মহলে

পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার তদন্তে উঠে এল এক চাঞ্চল্যকর মোড়। এই প্রথম কোনো ভারতীয় তদন্তকারী সংস্থার চার্জশিটে গাজা-ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ‘হামাস’-এর সঙ্গে পাকিস্তানের মদতপুষ্ট জঙ্গি গোষ্ঠীগুলির সম্ভাব্য যোগসূত্রের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে উঠে এল। জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)-র সাম্প্রতিক চার্জশিট অনুযায়ী, ভারতের মাটিতে সন্ত্রাস ছড়াতে লস্কর-ই-তৈবা (LeT), জইশ-ই-মহম্মদ ও দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (TRF)-এর মতো সংগঠনগুলি হামাসের সঙ্গে কোনো অপারেশনাল বা কৌশলগত যোগাযোগ গড়ে তুলেছে কি না, তা নিয়ে জোর তল্লাশি শুরু হয়েছে।

চার্জশিটে এনআইএ-র দাবি:
পহেলগাঁও হামলার চার্জশিটে এনআইএ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, লস্কর বা জইশ-এর মতো নিষিদ্ধ সংগঠনগুলির সঙ্গে আল-কায়দা বা হামাসের মতো আন্তর্জাতিক জঙ্গি গোষ্ঠীগুলির কোনো কার্যক্ষমতা সংক্রান্ত যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত জারি রাখা হয়েছে। ভারতের কোনো শীর্ষস্থানীয় অ্যান্টি-টেরর এজেন্সির চার্জশিটে হামাসের নাম সরাসরি উল্লেখ করাকে কূটনৈতিক ও সামরিক মহলে অত্যন্ত নজিরবিহীন এবং তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সন্দেহের মূলে ইজরায়েল হামলার ছায়া:
নিরাপত্তা সংস্থাগুলির প্রাথমিক তদন্তে পহেলগাঁও হামলার রণকৌশল, পরিকল্পনা এবং লক্ষ্যবস্তু নির্বাচনের সঙ্গে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইজরায়েলে চালানো হামাসের ভয়াবহ হামলার কৌশলগত বেশ কিছু সাদৃশ্য পাওয়া গেছে। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, বিগত কয়েক মাসে পাকিস্তানের নিষিদ্ধ সংগঠনগুলির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে হামাস নেতাদের যোগাযোগ ও বৈঠক উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে।

তদন্তের পরিধি:
গোয়েন্দা সংস্থাগুলি এখন মূলত তিনটি বিষয়ের ওপর জোর দিচ্ছে:

আর্থিক লেনদেন: হামলার পেছনে থাকা আর্থিক উৎস (Financial Trails) খতিয়ে দেখা।

ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ: হামলাকারীদের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট এবং সাইবার নেটওয়ার্কের বিশ্লেষণ।

সীমান্তপারের নেটওয়ার্ক: পাকিস্তান ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক জঙ্গি গোষ্ঠীর মধ্যে গড়ে ওঠা নতুন এই ‘অক্ষ’ বা যোগসূত্রটি পুরোপুরি উন্মোচন করা।

পহেলগাঁও হামলার ঘটনার পর এনআইএ-র এই চার্জশিট দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত দিচ্ছে। পাকিস্তান ও বৈশ্বিক জিহাদি সংগঠনগুলির এই সম্ভাব্য আঁতাত ভারতের সুরক্ষা ব্যবস্থায় কতটা বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, এখন তা নিয়ে চূড়ান্ত সতর্ক অবস্থায় রয়েছে ভারতীয় গোয়েন্দারা।