‘কাউকেই ছাড়ব না!’ তৃণমূলের বিরুদ্ধে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দুর্নীতির বিস্ফোরক অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের বিপুল অর্থ তছরূপের অভিযোগে ফের সরগরম রাজ্য রাজনীতি। এদিন এক সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সরাসরি ‘সরকারি টাকা লুঠ’ করার অভিযোগ তুললেন। মুখ্যমন্ত্রী জানান, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৩০ লক্ষ ভুয়ো অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত করা হয়েছে, যা রাজ্যের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় বড়সড় দুর্নীতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ভুয়ো অ্যাকাউন্টের জালে তৃণমূল নেতা!
মুখ্যমন্ত্রী এদিন সরাসরি রাকিবুল শেখ, মুস্তাফিজুর রহমান ও তারিকুল রহমানের মতো ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ করে বলেন, এদের হাত দিয়ে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পাচার হয়েছে। তদন্তে এখনও পর্যন্ত ২২টি ভুয়ো অ্যাকাউন্টের হদিশ পাওয়া গিয়েছে, যেখানে প্রাপক হিসেবে রয়েছেন পুরুষরা, অথচ নিয়ম অনুযায়ী এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার কথা শুধুমাত্র মহিলাদের। মুখ্যমন্ত্রী ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, “১৫টি অ্যাকাউন্ট একাই চালাচ্ছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান। এরা তো সাধারণ মানুষ নয়, তৃণমূলের নেতা যারা এই প্রকল্পের টাকা লুঠ করেছে।”
এসআইটি (SIT) গঠন ও কড়া হুঁশিয়ারি
এই আর্থিক দুর্নীতির শিকড় খুঁজতে মুখ্যমন্ত্রী ডিজি-কে অবিলম্বে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, “এখানে মানি লন্ডারিংয়ের মামলাও দায়ের করা হবে। আমরা গ্রাসরুট বা তৃণমূল স্তর থেকে এদের খুঁজে বের করব। কাউকে ছাড়া হবে না।” তবে একই সঙ্গে তিনি বিজেপি কর্মীদের আইন হাতে তুলে না নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
জনরোষ বনাম রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র
সম্প্রতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হেনস্থার ঘটনা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি বিক্ষোভে রাজনৈতিক দলের হাত নেই, বরং এটি দীর্ঘদিনের জমে থাকা জনরোষ। রাজ্যের প্রশাসনিক রদবদল ও পুলিশের বর্তমান সক্রিয়তা নিয়ে তিনি বলেন, “মানুষ এই বদলটাই চেয়েছিল। সরকার পরিবর্তন হয়েছে এক মাসও হয়নি, তার মধ্যেই প্রশাসনের এই সক্রিয়তা প্রমাণ করে যে রাজ্যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে।”
উল্লেখ্য, ১২ পাতার ফর্মের যৌক্তিকতা নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনার জবাবে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, সরকারি অর্থের স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই কড়াকড়ি। জনগণের টাকা লুঠ হওয়ার ঘটনাকে তিনি ‘হিমশৈলের চূড়া’ বলে অভিহিত করে রাজ্য জুড়ে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের বার্তা দিলেন।