মহিলাদের শৌচাগারে স্পাই ক্যামেরা! প্রতিশোধ নিতে গিয়ে ধরা পড়ল সরকারি দপ্তরের ক্লার্ক

সরকারি দপ্তরের অন্দরে নারীদের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার চরম লঙ্ঘনের এক ভয়াবহ ঘটনা সামনে এল ওড়িশার জগৎসিংহপুরে। জেলা পল্লী উন্নয়ন সংস্থার (ডিআরডিএ) অফিসের মহিলাদের শৌচাগারে স্পাই ক্যামেরা বসিয়ে ভিডিও রেকর্ড করার অভিযোগে সঞ্জয় আদেখা নামে এক জুনিয়র ক্লার্ককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
প্রতিশোধের জঘন্য ছক
পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। অভিযুক্ত সঞ্জয় দপ্তরেরই এক নারী সহকর্মীকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছিল। সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পরেই সে প্রতিশোধ নেওয়ার পথ বেছে নেয়। পুলিশ সুপার অঙ্কিত বর্মা জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকেই সে এই জঘন্য অপরাধের পরিকল্পনা করে।
ইউটিউব দেখে প্রশিক্ষণ, প্রতি সপ্তাহে ব্যাটারি বদল
তদন্তে জানা গিয়েছে, এই বছরের জানুয়ারি মাসে ইউটিউব দেখে স্পাই ক্যামেরা সম্পর্কে প্রযুক্তিগত জ্ঞান অর্জন করে অভিযুক্ত। এরপর অনলাইনে ক্যামেরা আনিয়ে মার্চ মাসে তা গোপনে অফিসের শৌচাগারে বসিয়ে দেয়। এতটাই ধূর্ত ছিল সে যে, নিয়মিত ক্যামেরার ব্যাটারি চার্জ করার জন্য প্রতি সপ্তাহে সেটি অফিস থেকে বের করত এবং পুনরায় শৌচাগারে সেট করে আসত। দীর্ঘ সময় ধরে সে নিজের মোবাইলে ওই ভিডিওগুলো দেখত বলেও অভিযোগ।
পুলিশের জালে অভিযুক্ত, বাজেয়াপ্ত হার্ডডিস্ক
মহিলা সহকর্মীদের অভিযোগের ভিত্তিতে তিরতোল থানা তদন্তে নামে। শনিবার অভিযুক্ত সঞ্জয়কে গ্রেপ্তার করার পর তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ স্পাই ক্যামেরা, মোবাইল ফোন, পেন ড্রাইভ এবং সিসিটিভি হার্ড ডিস্ক উদ্ধার করেছে। ঘটনার ভয়াবহতা দেখে জেলা প্রশাসন কালবিলম্ব না করে অভিযুক্তকে অবিলম্বে বরখাস্ত করেছে।
ফরেনসিক পরীক্ষার পথে পুলিশ
গ্রেপ্তারের পর অভিযুক্ত নিজের কৃতকর্মের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করে ক্ষমা প্রার্থনা করলেও, পুলিশ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। উদ্ধার হওয়া ইলেকট্রনিক ডিভাইসগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। রেকর্ড করা ভিডিওগুলো কোথাও আপলোড করা হয়েছে কি না বা অন্য কারো কাছে পাঠানো হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই ঘটনা সরকারি দপ্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ডিজিটাল গোপনীয়তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল। কর্মক্ষেত্রে নারীদের নিরাপত্তা এখন সাধারণ মানুষের কাছে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।