ছেলের হত্যাকারীদের বাড়ি গুঁড়িয়ে দিন! মায়ের আর্তনাদে টনক নড়ল প্রশাসনের, ১৫ দিনের আল্টিমেটাম

গাজিয়াবাদের কুখ্যাত সূর্য চৌহান হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিচারের দাবিতে অনড় ছিলেন নিহত তরুণের মা সরোজ। ছেলের অকাল মৃত্যুতে ভেঙে পড়ে তিনি প্রশাসনের কাছে বারবার আকুতি জানিয়েছিলেন, “হত্যাকারীদের বাড়ি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হোক।” অবশেষে সেই মায়ের চাওয়াই পূর্ণ হতে চলেছে। আসাদের বাড়ির দেওয়ালে উচ্ছেদের নোটিশ সাঁটিয়ে প্রশাসন স্পষ্ট বার্তা দিল—অবৈধ সম্পত্তি ভাঙা এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা।
১৫ দিনের সময়সীমা
নবনীত বিহারে মূল অভিযুক্ত আসাদের বাড়িতে বড় ধরনের অভিযান শুরু করেছে প্রশাসন। সাব-ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট (এসডিএম)-এর জারি করা উচ্ছেদ নোটিশ টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে আসাদের বাড়ির দেওয়ালে। পুরো এলাকায় ঢাক পিটিয়ে এবং লাউডস্পিকারে ঘোষণা করা হয়েছে, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে অভিযুক্তের পরিবারকে তাদের অবৈধ দখল সরাতে হবে। এই সময়সীমা শেষ হলেই প্রশাসনের বুলডোজার গর্জে উঠবে বলে জানানো হয়েছে।
যেভাবে ঘটেছিল হত্যাকাণ্ড
তদন্তে উঠে এসেছে, ঘটনার মূলে ছিল দুই বাইক নিয়ে সামান্য বিবাদ, যা চূড়ান্ত পরিণতি পায় মাত্র আধ ঘণ্টার ব্যবধানে। আসাদ, তার বাবা নবাব এবং বন্ধু ফারহান মিলে বিকেল সাড়ে ৩টে নাগাদ সূর্যকে ঘিরে ফেলে। অভিযোগ, বাবার উস্কানিতেই আসাদ সূর্যের পেটে একাধিকবার ছুরিকাঘাত করে। পরে নয়ডার ফোর্টিস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় সূর্যের।
পুলিশি তদন্তে আরও জানা যায়, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে ছিল দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত শত্রুতা। আসাদের বোনের সঙ্গে সূর্যের প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে বিবাদ ছিল দীর্ঘদিনের। আসাদের পরিবার এটিকে ‘সম্মানের লড়াই’ হিসেবে দেখে এবং শেষ পর্যন্ত সূর্যকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেয়।
অভিযুক্তের শেষ পরিণতি
প্রধান অভিযুক্ত আসাদ, যার মাথার দাম ছিল ৫০,০০০ টাকা, ২৮ মে পুলিশের এনকাউন্টারে নিহত হয়েছে। অত্যন্ত গোপনীয়তা ও কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে পুলিশ তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে এবং শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। তবে এনকাউন্টারের পরেও নিহতের মা ও স্থানীয়রা অন্যান্য অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির দাবিতে সরব ছিলেন।
আসাদের বাবা নবাবসহ অন্যান্য অভিযুক্তরা বর্তমানে জেলবন্দি। প্রশাসনের এই কঠোর পদক্ষেপ এবং উচ্ছেদের নোটিশ নিহতের পরিবারকে কিছুটা হলেও স্বস্তি দিয়েছে। আইন যে অপরাধীর জাত-পাত বা সামাজিক অবস্থান দেখে না, এই বুলডোজার অভিযানের বার্তা এখন তা-ই মনে করিয়ে দিচ্ছে গাজিয়াবাদের বাসিন্দাদের।