পেনশনে বড় বদল আসছে? OPS, NPS নাকি UPS—বেছে নেওয়ার সুযোগ পেতে চলেছেন কর্মীরা

অষ্টম বেতন কমিশন ঘিরে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের প্রত্যাশা তুঙ্গে। ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ও ডিএ বৃদ্ধির পাশাপাশি, অবসরপ্রাপ্তদের সামাজিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবার পেনশনের কাঠামোয় বড়সড় পরিবর্তনের প্রস্তাব সামনে এসেছে। NC-JCM-এর পক্ষ থেকে বেতন কমিশনে জমা দেওয়া স্মারকলিপিতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দাবি উত্থাপন করা হয়েছে।
পেনশন হার বৃদ্ধির প্রস্তাব: বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মীরা শেষ প্রাপ্ত বেতনের (LPD) ৫০% পেনশন পান। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, এটি বাড়িয়ে ৬৭% করার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সুপারিশ মেনে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পেনশনের হার বাড়ানোর একটি বিশেষ মডেল প্রস্তাব করা হয়েছে:
-
৬৫ বছর: শেষ বেতনের (LPD) ৭০%
-
৭০ বছর: LPD-র ৭৫%
-
৭৫ বছর: LPD-র ৮০%
-
৮০ বছর: LPD-র ৮৫%
-
৮৫ বছর: LPD-র ৯০%
-
৯০ বছর: LPD-র ১০০%
পেনশন স্কিম নির্বাচনে নমনীয়তা: অষ্টম বেতন কমিশনের আলোচনায় অন্যতম বড় বিষয় হলো—কর্মচারীদের পেনশনের ক্ষেত্রে ‘অপশন’ বা বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা প্রদান। অর্থাৎ, একজন কর্মচারী তাঁর প্রয়োজন অনুযায়ী OPS (ওল্ড পেনশন স্কিম), NPS (ন্যাশনাল পেনশন সিস্টেম), অথবা UPS (ইউনিফাইড পেনশন স্কিম)—এর মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিতে পারবেন।
তিন স্কিমের মূল পার্থক্য: ১. OPS: এটি সম্পূর্ণ সরকার নিয়ন্ত্রিত একটি নিশ্চিত লাভজনক স্কিম, যেখানে শেষ বেতনের ভিত্তিতে পেনশনের নিশ্চয়তা থাকে। ২. NPS: এটি একটি অবদান-ভিত্তিক মডেল, যা বাজারের রিটার্নের ওপর নির্ভরশীল। ৩. UPS: এটি এনপিএস-এর অবদানের সঙ্গে নিশ্চিত পেনশনের সমন্বয়ে গঠিত একটি হাইব্রিড মডেল।
অষ্টম বেতন কমিশন কেন গুরুত্বপূর্ণ? ভারতে বর্তমানে ১.১ কোটিরও বেশি কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী এবং পেনশনভোগী রয়েছেন, যাদের জীবনযাত্রার মান এই বেতন কমিশনের ওপর সরাসরি নির্ভরশীল। ১৯৪৬ সালে প্রথম বেতন কমিশন গঠনের পর থেকে সাধারণত প্রতি ১০ বছর অন্তর নতুন কমিশন গঠিত হয়। ২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর অষ্টম বেতন কমিশন গঠনের পর থেকেই এই নথিপত্র ও সুপারিশগুলো নিয়ে শুরু হয়েছে উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মুদ্রাস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অবসরপ্রাপ্তদের আর্থিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করাই এই নতুন প্রস্তাবগুলোর মূল লক্ষ্য। প্রস্তাবগুলি কার্যকর হলে লক্ষ লক্ষ অবসরপ্রাপ্ত কর্মীর জন্য তা এক বড় আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়াবে।