লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে বড় জালিয়াতি! ভুয়ো অ্যাকাউন্টে কোটি কোটি টাকা লুঠ? তদন্তে সিট গঠন মুখ্যমন্ত্রীর

রাজ্যের অন্যতম জনপ্রিয় প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ নিয়ে বড়সড় দুর্নীতির অভিযোগ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সরকারি কোষাগারের হাজার হাজার কোটি টাকা লুঠ করার অভিযোগ তুলে তিনি জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই ২২টি এমন ভুয়ো অ্যাকাউন্টের হদিশ পাওয়া গেছে, যেখানে উপভোক্তা মহিলারা নন, বরং পুরুষরা নিয়ম বহির্ভূতভাবে টাকা তুলে নিচ্ছেন।

দুর্নীতির ভয়াবহতা:
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি অনুযায়ী, রাজ্যে অন্তত ৩০ লক্ষ এমন ভুয়ো অ্যাকাউন্ট রয়েছে, যেখানে সরাসরি সরকারি টাকা ঢুকছে। তাঁর হিসাবমতে, প্রতি অ্যাকাউন্টে ১৫০০ টাকা করে ঢুকলে হাজার হাজার কোটি টাকা সরকারি কোষাগার থেকে লোপাট হয়ে যাচ্ছে। এই জালিয়াতির সঙ্গে পূর্বতন সরকারের আমলের দুর্নীতির সরাসরি যোগসূত্র থাকতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।

কীভাবে চলছে জালিয়াতি?
প্রশাসনিক সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী:

পুরুষ উপভোক্তা: প্রকল্পের নিয়ম ভেঙে বহু পুরুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এই ভাতার টাকা ঢুকছে।

একাধিক অ্যাকাউন্ট: মুস্তাফিজুর রহমান ও তাঁর স্ত্রীর নামে ১৫টি এবং তারিকুল রহমানের ৬টি অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে টাকা পাওয়ার নজির সামনে এসেছে।

অবৈধ অনুপ্রবেশকারী: প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের তালিকায় অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের নাম থাকার অভিযোগও গুরুতরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রশাসনের পদক্ষেপ:
দুর্নীতির এই মূলে পৌঁছাতে ডিজিপির (DGP) নির্দেশে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট (SIT) গঠন করা হয়েছে। এই সিট পুরো বিষয়টি মনিটরিং করবে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এসআইআর (SIR) রিপোর্ট অনুযায়ী বাদ পড়া নাম এবং অবৈধ পুরুষ উপভোক্তাদের তালিকা মিলিয়ে অন্তত ৩০ লক্ষ নাম প্রকল্প থেকে ছেঁটে ফেলা হবে।

মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি:
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়েছেন, রাজ্যের সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দ অর্থ এভাবে তছরুপ করার ঘটনা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। দোষীদের চিহ্নিত করে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই জালিয়াতি সামনে আসায় রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। দুর্নীতির এই তদন্তে শেষ পর্যন্ত কী বেরিয়ে আসে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।