‘ভোটের সময় করা মন্তব্যই কি ক্ষোভের কারণ?’ অভিষেকের ওপর হামলা নিয়ে বিস্ফোরক ঋজু দত্ত

সোনারপুরে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার ঘটনায় উত্তপ্ত বাংলার রাজনীতি। এই নজিরবিহীন ঘটনার তীব্র নিন্দা করলেও, তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত নেতা ঋজু দত্তের মন্তব্যে তৈরি হয়েছে নতুন জল্পনা। তাঁর দাবি, ভোটের প্রচারে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কিছু রাজনৈতিক মন্তব্য ও আক্রমণাত্মক ভাষাই জনমানসে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছিল।

হামলার তীব্রতা নিয়ে বিস্ফোরক ঋজু:
হামলার ধরন নিয়ে কোনো রাখঢাক না করেই ঋজু দত্ত বলেন, এটি নিছক ঘটনা নয়, বরং প্রাণঘাতী হামলার চেষ্টা ছিল। ঘটনাস্থলের ভিডিওর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “একজন যুবক যেভাবে ইট ছুড়েছিল, তাতে যদি অভিষেক হেলমেট পরে না থাকতেন বা ইটের আঘাত সরাসরি মাথায় লাগত, তবে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারত।”

‘জনরোষ’ বনাম রাজনৈতিক প্রতিহিংসা:
ঋজু দত্তর দাবি, অভিষেকের ওপর এই হামলাকে অনেকেই ‘জনরোষ’ হিসেবে দেখছেন। তাঁর মতে, অতীতে বিজেপির নেতা জেপি নড্ডা বা সাংসদ খগেন মুর্মুর ওপর হামলার সময় তৃণমূলও একই যুক্তিতে ‘জনরোষ’-এর কথা বলেছিল। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের সময় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে যে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়া হয়েছিল, তা রাজ্যের সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশ ভালোভাবে নেয়নি।

বিজেপি নেতৃত্বের প্রশংসা ঋজুর গলায়:
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের ভূমিকার প্রশংসা শোনা গেছে ঋজু দত্তর মুখে। তিনি দাবি করেন, বিজেপি নেতৃত্ব প্রতিশোধের পথে না হেঁটে যে সংযম দেখিয়েছেন, তার ফলেই রাজ্যে বড় কোনো সংঘাত এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তাঁর কথায়, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার পথে হাঁটলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারত।

সোনারপুরের এই ঘটনা যে রাজ্যের রাজনৈতিক আবহে এক গভীর প্রভাব ফেলেছে, তা বলাই বাহুল্য। এখন প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে ওয়াকিবহাল মহল।