ত্রিপল থেকে বাচ্চাদের ফুটবল চুরি, গ্রেফতার পূর্বস্থলীর প্রাক্তন বিধায়ক

সরকারি সম্পত্তি চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন পূর্বস্থলী উত্তরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায়। রবিবার তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ সরকারি সামগ্রী উদ্ধারের পর পুলিশের জালে জড়ান তিনি। এই ঘটনায় এলাকা জুড়ে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
কী কী উদ্ধার হয়েছে? পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার প্রাক্তন বিধায়কের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। সেখান থেকে উদ্ধার হয়েছে:
-
২৭৫টি সরকারি ত্রাণের ত্রিপল
-
২০টি ফুটবল ও ১৪টি ভলিবল
-
অন্যান্য সরকারি সামগ্রী (কম্বল ও পোশাক)
অভিযোগ, এই সামগ্রীগুলির অনেকটিতেই সরকারি সিলমোহর রয়েছে, যা নিয়ম বহির্ভূতভাবে বিধায়ক পদের অপব্যবহার করে নিজের বাড়িতে ও কাছের একটি অফিসে মজুত করেছিলেন তপন চট্টোপাধ্যায়। বিশ্বনাথ দত্ত এবং প্রাণকৃষ্ণ দেবনাথ নামে দুই ব্যক্তির অভিযোগের ভিত্তিতেই এই অভিযান চালানো হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, পাটুলি বিডিও অফিসের স্টোররুম থেকে এই সামগ্রীগুলি সরিয়ে নিজের হেফাজতে রেখেছিলেন প্রাক্তন বিধায়ক।
কী বলছেন প্রাক্তন বিধায়ক? গ্রেপ্তারের আগে তপন চট্টোপাধ্যায় অবশ্য তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, “ত্রিপলগুলি বর্ষার মরসুমে দুর্গতদের মাঝে বিতরণের জন্য এসেছিল। এর মধ্যে চুরির কোনো বিষয় নেই।”
রাজনৈতিক পরিস্থিতি তপন চট্টোপাধ্যায়কে যখন পুলিশ থানায় নিয়ে যাচ্ছিল, তখন তাঁর বাড়ি চত্বরে উপস্থিত বিজেপি কর্মীরা তাঁকে লক্ষ্য করে ‘চোর-চোর’ স্লোগান দেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নিরাপত্তার মধ্যেই রাজ্য পুলিশ পুরো তল্লাশি অভিযানটি সম্পন্ন করে। দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদের পর রবিবারই তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়।
সরকারি ত্রাণ সামগ্রী ব্যক্তিগত দখলে রাখা এবং তা বিতরণের পরিবর্তে বাড়িতে লুকিয়ে রাখার এই ঘটনায় তৃণমূল নেতৃত্বের ভাবমূর্তি নিয়ে ফের নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। বিষয়টি নিয়ে জেলা রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।