‘কেন্দ্রীয় বাহিনী চিরকাল থাকবে না!’ পুলিশ প্রশাসনকে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ বিধায়ক মদন মিত্রের

ভোট-পরবর্তী হিংসা ও জনরোষের আবহে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যখন এমনিতেই উত্তপ্ত, ঠিক তখনই কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রের এক বিস্ফোরক মন্তব্যে নতুন করে বিতর্কের ঝড় উঠল। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন এবং কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনী (CAPF)-কে উদ্দেশ্য করে মদন মিত্রের হুমকি, “কেন্দ্রীয় বাহিনীর সুরক্ষা চিরকাল থাকবে না, শেষ পর্যন্ত পুলিশকে তৃণমূলেরই পায়ে পড়তে হবে।”
কী বলেছেন মদন মিত্র? সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে কামারহাটির বিধায়ককে বেশ আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে শোনা গেছে। তাঁর মতে, কামারহাটিতে কাজ করতে হলে স্থানীয় পুলিশকে তৃণমূল কংগ্রেসের নির্দেশ মেনেই চলতে হবে এবং তাদের দলের কাছে নতিস্বীকার করতে হবে। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে উদ্দেশ্য করে তাঁর এই মন্তব্য প্রশাসনিক মহলে তীব্র অস্বস্তি তৈরি করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে: রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের দাবি, মদন মিত্রের এই মন্তব্য তৃণমূলের রাজনৈতিক সংস্কৃতির একটি বড় অংশের প্রতিচ্ছবি। দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার ফলে দলের অনেক নেতাই নিজেকে আইনের ঊর্ধ্বে ভাবতে শুরু করেছেন। মদন মিত্রের এই হুঁশিয়ারি পুলিশ বাহিনীর স্বাধীনতা ও মর্যাদার ওপর সরাসরি আঘাত বলেই মনে করছেন অনেকে।
জনরোষ ও প্রশাসনিক সংকট: সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দুর্নীতি, নিয়োগ কেলেঙ্কারি এবং প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ নিয়ে রাজ্যজুড়ে শাসকদলের নেতাদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, “একজন জনপ্রতিনিধি যদি পুলিশকে এভাবে হুমকি দেন, তবে সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার পাবে কোথায়?” কামারহাটি এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকায় অপরাধীদের ওপর যে নিয়ন্ত্রণ তৈরি হয়েছে, মদন মিত্রের এই বক্তব্যে মূলত সেই ব্যবস্থাকেই চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে বলে অনেকে মনে করছেন।
বিতর্কের প্রেক্ষাপট: যদিও তৃণমূলের অন্দরের অনেকে বিষয়টিকে মদন মিত্রের ‘স্বভাবজাত’ মন্তব্য বলে লঘু করে দেখাতে চাইছেন, তবুও বিরোধী দলগুলো এই ইস্যুকে হাতিয়ার করে মাঠে নেমেছে। তাদের অভিযোগ, এটি কেবল একজন ব্যক্তির মন্তব্য নয়, বরং শাসকদলের দম্ভ ও প্রশাসনিক অরাজকতার চূড়ান্ত নিদর্শন।