“৩ হাজার টাকার জন্য ১২ পাতার ফর্ম!”-‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ নিয়ে কেন এত জটিলতা? মুখ খুললেন মন্ত্রী

রাজ্য সরকারের নতুন প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ নিয়ে রাজ্যের মহিলাদের মধ্যে একদিকে যেমন উৎসাহ রয়েছে, অন্যদিকে ফর্মের বিশাল কলেবর দেখে তৈরি হয়েছে ব্যাপক বিভ্রান্তি। ৩ হাজার টাকা পাওয়ার আশায় ১১-১২ পাতার ফর্ম পূরণ করতে গিয়ে নাজেহাল সাধারণ মানুষ। কেন এই জটিলতা? এনিয়েই মুখ খুললেন রাজ্যের নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল।
কেন ১২ পাতার ফর্ম? আগে ঘোষণা করা হয়েছিল, যাঁরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাচ্ছেন, তাঁদের নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবেই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে যুক্ত হবে। কিন্তু ফর্ম ফিলাপের ঝঞ্ঝাট দেখে প্রশ্ন উঠছে, সেই প্রতিশ্রুতি কেন বাস্তবায়িত হলো না? মন্ত্রীর দাবি, তথ্য যাচাইয়ের সময় ‘৯১ লক্ষ এসআইআর’ (SIR)-এ বহু ভুয়ো নাম ধরা পড়েছে। এমনকী, সরকারি নিয়ম ভেঙে পুরুষদেরও লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাওয়ার মতো ঘটনা সামনে এসেছে। মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের কথায়, “জনগণের টাকা রক্ষা করার জন্যই এই কঠোর স্ক্রুটিনি। আমরা দেখার পর সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে যাচাইকরণ জরুরি।”
মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের আশ্বাস: সাধারণ মানুষের হয়রানির বিষয়টি স্বীকার করে নিয়ে মন্ত্রী বলেন, “আমি এবং মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী দুজনেই বলেছিলাম অটোমেটিক ট্রান্সফার হবে। কিন্তু এখন যা পরিস্থিতি, তাতে জনগণের টাকাকে সম্মান জানাতেই এই ব্যবস্থা। তবে যাদের পাওয়ার কথা, তারা অবশ্যই এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন, সেই নিশ্চয়তা আমি দিচ্ছি।” পাশাপাশি, আবেদনের পদ্ধতি আরও সহজ করা যায় কি না, তা নিয়ে পর্যালোচনার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার: আবেদনকারীদের জন্য জরুরি নির্দেশিকা প্রকল্পটির সুবিধা পেতে হলে আবেদনকারীদের নিচের যোগ্যতামানগুলো মেনে চলতে হবে:
-
বয়সসীমা: আবেদনকারীর বয়স ২৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে।
-
পেশাগত যোগ্যতা: সরকারি চাকরিজীবী, পঞ্চায়েত বা পুরসভায় কর্মরত, সরকার পোষিত বিদ্যালয়ের শিক্ষক বা শিক্ষাকর্মীরা এই প্রকল্পের আওতার বাইরে থাকবেন।
-
আর্থিক শর্ত: যাঁদের পরিবার আয়কর প্রদান করে, তাঁরা এই প্রকল্পের জন্য যোগ্য বলে গণ্য হবেন না।
বর্তমানে ডিবিটি (DBT) লিঙ্ক করানোর চাপ এবং ফর্ম পূরণের দীর্ঘসূত্রিতায় সাধারণ মানুষ কিছুটা দিশেহারা। তবে প্রশাসনের দাবি, স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং সরকারি কোষাগারের অর্থের অপচয় রোধ করতেই এই নতুন নিয়মাবলি তৈরি করা হয়েছে।
এখন দেখার, আগামী দিনে ফর্ম ফিলাপের প্রক্রিয়াটি আদৌ সরলীকরণ করা হয় কি না এবং দ্রুত এই প্রকল্পের সুবিধা প্রকৃত প্রাপকদের হাতে পৌঁছায় কি না।