‘যেখানে খুশি যাবেন, নিরাপত্তা দেওয়া আমাদের দায়িত্ব!’ নারী স্বাধীনতা নিয়ে গর্জে উঠলেন অগ্নিমিত্রা পাল

রাজ্যের মহিলাদের স্বাধীনতা ও সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার বার্তা দিলেন নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। শুক্রবার এক অনুষ্ঠানে তিনি স্পষ্ট করে দিলেন, একজন মহিলার পোশাক নির্বাচন বা চলাফেরার ওপর প্রশ্ন তোলার অধিকার কারও নেই। পাশাপাশি, রাজ্যের মহিলাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে সরকারের অঙ্গীকারের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি।

‘নিরাপত্তা দেওয়া আমাদের কর্তব্য’ মহিলাদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে এদিন অগ্নিমিত্রা পাল অত্যন্ত কঠোর ও স্পষ্ট অবস্থানে ছিলেন। তিনি বলেন, “রাজ্যের মহিলারা যখন খুশি বাইরে বেরোবেন, যেখানে খুশি যাবেন—এটি তাঁদের মৌলিক অধিকার। তাঁদের এই চলাফেরা নিয়ে কোনো রকম প্রশ্ন বা কটাক্ষ বরদাস্ত করা হবে না। তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের কর্তব্য ও দায়িত্ব।” মহিলাদের অভিযোগ জানানোর প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করতে তিনি ‘জিরো এফআইআর’ (Zero FIR) চালু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং প্রতিটি মহকুমায় একটি করে আলাদা মহিলা থানা স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছেন।

প্রযুক্তির হাত ধরে আধুনিক বাংলা নিরাপত্তার পাশাপাশি নাগরিক পরিষেবাকে হাতের মুঠোয় আনতে আগামীকাল থেকে চালু হচ্ছে রাজ্য সরকারের ‘স্বচ্ছ অ্যাপ’। এই অ্যাপের মাধ্যমে রাস্তা, নিকাশি ও আবর্জনা সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যার সমাধান মিলবে এক ক্লিকেই। শুরুতে রাজ্যের ১০টি পুরসভায় এটি চালু হলেও, ধাপে ধাপে তা রাজ্যজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

পরিচ্ছন্ন বাংলা ও স্মার্ট সিটির রূপরেখা পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতেও বেশ কিছু কড়া পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন অগ্নিমিত্রা পাল:

  • জঞ্জাল ব্যবস্থাপনা: ১ জুন থেকে রাজ্যের রাস্তার মোড়ে মোড়ে ১০০-২০০ মিটার অন্তর ডাস্টবিন বা বিন বসানো হবে।

  • জরিমানা: ১ সেপ্টেম্বর থেকে যত্রতত্র জঞ্জাল ফেলা বা থুতু ফেলার ওপর কড়া জরিমানা ধার্য করা হবে।

  • নতুন স্মার্ট সিটি: আধুনিক পরিকাঠামো গড়তে তমলুক, নবদ্বীপ, শিলিগুড়ি এবং আসানসোল—এই চারটি শহরকে স্মার্ট সিটি হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এছাড়া উত্তরবঙ্গে আরও চারটি নতুন শহরের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

মন্ত্রী আক্ষেপের সুরে জানান, বিগত দিনগুলিতে বাংলা উন্নয়নের পথ থেকে দিশা হারিয়েছিল, বন্ধ্যা অবস্থায় ছিল শিল্প ও কর্মসংস্থান। সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে নতুন স্বপ্ন ও আধুনিক পরিকাঠামো গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য।