অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার ফর্ম ফিলাপে সাবধান! ৫, ৬ ও ৭ নম্বর পাতায় ভুল করলেই বাতিল আবেদন

রাজ্য সরকারের নতুন জনকল্যাণমূলক প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’-এর ফর্ম প্রকাশ হতেই শুরু হয়েছে আবেদন প্রক্রিয়া। ১৩ পাতার এই বিশাল ফর্মে প্রায় ৩০টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হচ্ছে আবেদনকারীদের। তবে এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে ফর্ম ফিলাপটি অত্যন্ত সতর্কতার সাথে করা প্রয়োজন। বিশেষ করে ফর্মের ৫, ৬ ও ৭ নম্বর পাতা পূরণ করার সময় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিচ্ছে প্রশাসন।

কেন ৫, ৬ ও ৭ নম্বর পাতা গুরুত্বপূর্ণ? প্রশাসনিক সূত্রে খবর, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের আবেদন ফর্মে আবেদনকারী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের পেশা, কর্মসংস্থান এবং বার্ষিক আয়ের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ চাওয়া হয়েছে। আর এই অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্যগুলো মূলত ফর্মের ৫, ৬ ও ৭ নম্বর পাতায় রয়েছে।

কী কী সতর্কতা জরুরি?

  • সঠিক তথ্যের বাধ্যবাধকতা: আয়ের ক্ষেত্রে ভুল তথ্য দিলে আবেদনটি তৎক্ষণাৎ বাতিল হওয়ার পাশাপাশি আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট পোর্টাল থেকে ‘ব্ল্যাকলিস্টেড’ করার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে সরকারি অন্য কোনো প্রকল্পের সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হতে পারেন।

  • আইনি জটিলতা: ফর্মের শেষে স্পষ্ট ডিক্লারেশন বা ঘোষণা রয়েছে। সেখানে লেখা আছে, ভুল তথ্য প্রদান প্রমাণিত হলে সামাজিক সুরক্ষা সংক্রান্ত সুবিধা বন্ধ তো হবেই, প্রয়োজনে আইনি পদক্ষেপও নেওয়া হতে পারে।

  • আয়কর ও নাগরিকত্ব সংক্রান্ত শর্ত: মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল আগেই স্পষ্ট করেছেন, আয়করদাতা বা নাগরিকত্ব তালিকার বাইরে থাকা ব্যক্তিরা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না। তাই আয়ের কলামগুলো পূরণে বিশেষ সচেতনতা প্রয়োজন।

আবেদনকারীদের জন্য পরামর্শ সরকারি বা যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ আবেদনের ক্ষেত্রে ভুল তথ্য দেওয়া আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ক্ষেত্রেও সেই নিয়ম প্রযোজ্য। তাই অনলাইন হোক বা অফলাইন—ফর্ম জমা দেওয়ার আগে ৫, ৬ ও ৭ নম্বর পাতায় দেওয়া তথ্যগুলি বারবার যাচাই করে নিন। মনে রাখবেন, তাড়াহুড়ো করে দেওয়া ভুল তথ্য কেবল আপনার আবেদনই বাতিল করবে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে আইনি বিপত্তির কারণ হতে পারে।

এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য আবেদনকারীকে নিজের জ্ঞান ও বিশ্বাস অনুযায়ী সমস্ত তথ্য সত্য ও নির্ভুলভাবে প্রদান করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। আবেদনকারীদের সুবিধার্থে প্রকল্পের ফর্ম সরকারি ওয়েবসাইটেই দেওয়া রয়েছে।