“সীমান্তে কাঁটাতারের কাজ ঘিরে উত্তেজনা!”-BGB-র আগ্রাসী আচরণের নেপথ্যে আসল কারণ কী?

ভারত-বাংলাদেশ ৪,০৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত বরাবর ভারত সরকারের কাঁটাতার নির্মাণের কাজকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে উত্তেজনা বাড়ছে। এই কাজে বিএসএফ (BSF) যখন দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে, তখন ওপার থেকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (BGB) সদস্যদের তরফ থেকে বাধার অভিযোগ উঠছে। সীমান্তে নিরাপত্তার খাতিরে কাঁটাতার বসানো ভারতের অগ্রাধিকার হলেও, বিজিবির এমন ‘আগ্রাসী’ আচরণ নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চর্চা।
মোতায়েন বাহিনী ও সীমান্তের সমীকরণ বিএসএফ বিশ্বের বৃহত্তম সীমান্তরক্ষী বাহিনী, যাদের ২,৭০,০০০-এরও বেশি জওয়ান কর্মরত। অন্যদিকে, বাংলাদেশের আধাসামরিক বাহিনী বিজিবির প্রায় ৭০,০০০ সদস্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক জওয়ান ভারত সীমান্তে দায়িত্ব পালন করেন। ধারণা করা হয়, ভারত সীমান্তে বিজিবির প্রায় ৬৪টি ব্যাটালিয়ন মোতায়েন রয়েছে।
বিজিবি জওয়ানদের আগ্রাসী আচরণের কারণ কী? সাম্প্রতিক সময়ে বেড়া দেওয়ার কাজে পাথর ছোড়া কিংবা তর্কাতর্কির মতো ঘটনার পেছনে মূলত তিনটি কারণ চিহ্নিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা:
-
কাঁটাতার নিয়ে আপত্তি: বিজিবির দাবি, ভারতের এই বেড়া নির্মাণ আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন ও ‘নো ম্যানস ল্যান্ড’ (১৫০ গজ এলাকা)-এর নিয়মের পরিপন্থী।
-
রাজনৈতিক অস্থিরতা: বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রতিফলন অনেক সময় সীমান্তে এই ধরনের আচরণের মাধ্যমে ফুটে উঠছে বলে মনে করা হচ্ছে।
-
চোরাচালান ও অনুপ্রবেশ: ভারত সীমান্তে অবৈধ চোরাচালান ও অনুপ্রবেশ রুখতে বিএসএফ কঠোর হওয়ায় বিজিবির একাংশের সঙ্গে নিয়মিত সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।
ভারতের লক্ষ্য ও প্রশাসনিক অবস্থান ভারতের কাছে এই কাঁটাতার কেবল একটি সীমানা প্রাচীর নয়, এটি অবৈধ অনুপ্রবেশ, সন্ত্রাসবাদ এবং মাদক পাচার নিয়ন্ত্রণের একটি কৌশলগত ঢাল। পাকিস্তান সীমান্তে স্মার্ট ফেন্সিংয়ের সাফল্যের পর, সরকার বাংলাদেশ সীমান্তেও সেন্সর ও অত্যাধুনিক ক্যামেরা সম্বলিত ‘স্মার্ট বেড়া’ স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে।
সংঘাত এড়াতে উপায়? সীমান্তে উত্তাপ বাড়লেও উভয় দেশই বড় ধরনের সামরিক সংঘাত এড়াতে চায়। ছোটখাটো বিবাদ মেটাতে নিয়মিতভাবে ফ্ল্যাগ মিটিং এবং দুই বাহিনীর ডিজি পর্যায়ের বৈঠকের ওপরই ভরসা রাখা হচ্ছে। তবে যতক্ষণ না পর্যন্ত কাঁটাতার নির্মাণের আইনি জটিলতা ও দুই দেশের পারস্পরিক আস্থার সংকট কাটছে, ততক্ষণ সীমান্তে অস্থিরতার আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে।
সীমান্ত সুরক্ষা ও শান্তি বজায় রাখতে দুই দেশেরই আলোচনা ও সহমর্মিতার ভিত্তিতে সমস্যা সমাধানের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।