‘তৃণমূল নেতারা নিজেদের আখের গুছিয়েছে’, দুর্নীতির অভিযোগে ফের ঝাঁঝালো আক্রমণ দিলীপ ঘোষের

তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে অভিযোগ দায়েরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের উত্তপ্ত বাংলার রাজনীতি। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূলের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা বর্তমান সাংসদ দিলীপ ঘোষ। তাঁর দাবি, রাজ্যের শাসকদল এখন দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে এবং দ্রুত পতনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
যা বলেছেন দিলীপ ঘোষ:
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ ঘোষ সরাসরি অভিযোগ করেন, তৃণমূলের অন্দরে উপর থেকে নিচ পর্যন্ত দুর্নীতির শিকড় অনেক গভীরে। তিনি বলেন, “তৃণমূল নেতারা কেবল নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত। কেন্দ্র ও রাজ্যের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের টাকা গরিব মানুষের হক, যা লুঠ করা হয়েছে। এই দুর্নীতির দায়ে তাদের আইনের মুখোমুখি দাঁড়াতেই হবে।” তিনি আরও বিস্ফোরক মন্তব্য করে বলেন, “পুরো সংগঠনটি ধাপে ধাপে ভেঙে পড়ছে। মানুষের আস্থা হারানোর ফলে দলের ভেতর অস্থিরতা চরম আকার ধারণ করেছে।”
পাল্টা আক্রমণে তৃণমূল:
বিজেপির এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। ঘাসফুল শিবিরের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা আটকে রেখে এবং মিথ্যা অপবাদ দিয়ে রাজ্য সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার ষড়যন্ত্র করছে বিজেপি। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, লোকসভার স্পিকারের কাছে অভিযোগ জমা পড়ার নেপথ্যেও রয়েছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য।
সংসদীয় আঙিনায় বিতর্ক:
লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়ার পর থেকেই সংসদীয় মহলে এই নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। যদিও অভিযোগের সুনির্দিষ্ট বিষয়বস্তু এখনো প্রকাশ্যে আসেনি, তবে বিষয়টির গুরুত্ব রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে অনেক বেশি।
রাজনৈতিক সমীকরণ:
বিজেপি মনে করছে, দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্য রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন। তাদের মতে, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ফেরাতে এই ধরণের কড়া পদক্ষেপ জরুরি। অন্যদিকে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, সংগঠনের অন্দরের অন্তর্দ্বন্দ্ব এবং দুর্নীতির অভিযোগ তৃণমূলকে আগামী দিনে আরও বড় সংকটের দিকে ঠেলে দিতে পারে।