‘একটি ছেলেই যথেষ্ট নয়’, পুত্রসন্তানের লোভে তরুণী স্ত্রীকে সন্তান জন্ম দেওয়ার যন্ত্র বানিয়ে ফেললেন স্বামী!

একদিকে আধুনিক সমাজ যখন কন্যা-পুত্রের সমান অধিকারে বিশ্বাসী, অন্যদিকে তখনো ভারতের এক প্রান্তে পুত্রসন্তান পাওয়ার নেশায় এক তরুণীর জীবনকে কার্যত ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। মাত্র ২২ বছর বয়সেই পাঁচ সন্তানের জননী এই তরুণী বর্তমানে ষষ্ঠবারের মতো অন্তঃসত্ত্বা। আর এই ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একটিই দাবি— ‘বংশ রক্ষার জন্য আরও পুত্রসন্তান চাই’।
কী ঘটেছিল চিকিৎসকের চেম্বারে?
সম্প্রতি চিকিৎসক প্রজ্ঞা তোমর তাঁর ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও শেয়ার করেন, যা সোশ্যাল মিডিয়ায় মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। ভিডিওতে দেখা যায়, ওই তরুণী প্রচণ্ড শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে চিকিৎসকের কাছে এসেছেন। প্রজ্ঞার সাথে কথা বলার সময় বেরিয়ে আসে এক ভয়াবহ তথ্য— তরুণীর বিয়ে হয়েছিল মাত্র ১৫ বছর বয়সে। ২২ বছর বয়স পর্যন্ত গত কয়েক বছরে তিনি চারটি কন্যাসন্তান ও একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়েছেন। এখন ষষ্ঠবারের জন্য গর্ভধারণ করেছেন তিনি।
স্বামীর অদ্ভুত যুক্তি ও শারীরিক সংকট:
তরুণী জানান, তিনি প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা ও শরীর ব্যথায় ভুগছেন। চিকিৎসকের মতে, এত কম বয়সে ঘন ঘন গর্ভধারণের ফলে ওই তরুণীর শরীর পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। মায়ের জীবন এবং অনাগত সন্তানের জীবনের গুরুতর ঝুঁকির কথা জানালেও, তরুণীর স্বামীর অটল দাবি, “একটি ছেলে সংসার চালানোর জন্য যথেষ্ট নয়। পরিবার সামলাতে আরও একজনের প্রয়োজন।” বংশধারা বজায় রাখার দোহাই দিয়ে স্ত্রীর শরীরের চরম অবহেলার ঘটনাটি রীতিমতো হতবাক করেছে চিকিৎসক মহলকে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড়:
এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই নেটিজেনদের মধ্যে ক্ষোভের আগুন জ্বলে উঠেছে। ৬ লক্ষেরও বেশি মানুষ ভিডিওটি দেখেছেন। বেশিরভাগই প্রশ্ন তুলেছেন, ২২ বছর বয়সে যেখানে একজন তরুণীর নিজের স্বপ্নপূরণের বয়স, সেখানে তাকে সন্তান জন্ম দেওয়ার যন্ত্র বানিয়ে ফেলা হচ্ছে কেন? এক নেটিজেন লিখেছেন, “সে নিজেই তো এখনও বাচ্চা, তাকে এই বয়সে পাঁচ সন্তানের জননী করে তোলা নিষ্ঠুরতা।”
চিকিৎসক প্রজ্ঞা তোমর দম্পতিকে এই ঘন ঘন গর্ভধারণের মারাত্মক কুফল সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। তবে সামাজিক কুসংস্কার এবং পুত্রসন্তান পাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষার সামনে চিকিৎসকের সেই সতর্কবার্তা কতটা গুরুত্ব পাবে, তা নিয়ে গভীর সংশয় তৈরি হয়েছে।