পোশাক কি প্যারিসে ধোলাই হতো? নেহেরুর জীবন নিয়ে ওঠা বিতর্কের কড়া জবাব দিলেন ইতিহাসবিদ!

আধুনিক ভারতের রূপকার পণ্ডিত জওহরলাল নেহেরুকে নিয়ে আজও কৌতূহলের শেষ নেই। তাঁর পোশাকের লন্ড্রি থেকে শুরু করে বংশপরিচয় কিংবা মাউন্টব্যাটেন-পত্নী এডউইনার সাথে ঘনিষ্ঠতা—নেহেরুর জীবন নিয়ে প্রচলিত অনেক বিতর্কই মিথ বলে দাবি করলেন প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ পুষ্পেশ পান্ত। সম্প্রতি টিভি৯ ভারতবর্ষ-এর এক পডকাস্টে এসব বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন তিনি।

পোশাক কি প্যারিসে যেত?
নেহেরুর পোশাক লন্ড্রির জন্য প্যারিসে পাঠানো হতো—এমন দাবিকে ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন পান্ত। ইতিহাসবিদের ব্যাখ্যা, এলাহাবাদে ‘প্যারিস লন্ড্রি’ নামে একটি বিখ্যাত লন্ড্রি ছিল। ধনী ব্যক্তি হিসেবে নেহেরু সেখানেই তাঁর পোশাক ধোয়াতেন। সেই লন্ড্রির নাম শুনেই হয়তো ভুলবশত রটে গিয়েছিল যে তাঁর জামাকাপড় প্যারিসে ধোলাই হতো।

‘পণ্ডিত’ নাম এবং বংশপরিচয়
নেহেরুর নামের আগে ‘পণ্ডিত’ উপাধি নিয়ে পান্ত বলেন, এটি মূলত তাঁর ওপর চাপিয়ে দেওয়া একটি তকমা। সমসাময়িক নেতারা যেমন সুভাষচন্দ্র বসু বা সরোজিনী নাইডু তাঁকে ভালোবেসে ‘জওহর’ বলেই ডাকতেন। এছাড়া, নেহেরুর পূর্বপুরুষদের মুসলিম হওয়ার গুজবকেও নাকচ করেছেন তিনি। তিনি স্পষ্ট করেন, তাঁদের পূর্বপুরুষ গঙ্গাধর কৌল দিল্লির নগর পুলিশ প্রধান ছিলেন। ‘নেহেরু’ নামটি কাশ্মীরের ত্রাল অঞ্চলের ‘নূর’ নামক স্থান থেকে এসেছে।

বংশীয় রাজনীতির অভিযোগ ও রাজনৈতিক উত্থান
ভারতে বংশীয় রাজনীতি শুরুর দায় নেহেরুর ওপর চাপানো নিয়ে পুষ্পেশ পান্ত বলেন, জওহরলাল নেহেরু নিজের যোগ্যতায় জায়গা তৈরি করেছিলেন। তাঁর বাবা মতিলাল নেহেরু শুরুতে কংগ্রেসে খুব একটা সক্রিয় ছিলেন না, বরং জওহরলালের মাধ্যমেই মতিলাল গান্ধীজির সংস্পর্শে এসে স্বাধীনতা সংগ্রামে যোগ দিয়েছিলেন। অর্থাৎ, ছেলে বাবার হাত ধরে রাজনীতিতে আসেননি, বরং উল্টোটাই ঘটেছে।

এডউইনার সঙ্গে সম্পর্ক
এডউইনা মাউন্টব্যাটেনের সাথে নেহেরুর সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিনের গুঞ্জন প্রসঙ্গে পান্ত বলেন, বিষয়টি কখনোই গোপন ছিল না। এডউইনার কন্যা পামেলা মাউন্টব্যাটেনও স্বীকার করেছেন যে, তাঁদের মধ্যে গভীর ভালোবাসা ছিল। পান্ত-এর মতে, “ভালোবাসা ভালোবাসাই, একে অন্য কোনো নাম দেওয়ার প্রয়োজন নেই। এটি ছিল দুজন মানুষের পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অনুরাগের সম্পর্ক।”

আধুনিক ভারতের স্থপতি
পুষ্পেশ পান্ত মনে করেন, আধুনিক ভারত গঠনে নেহেরুর অবদান অনস্বীকার্য। তাঁর লেখা ‘ডিসকভারি অফ ইন্ডিয়া’ বইটি মূলত ভারতের খোঁজে বেরোনোর চেয়েও নিজের ভূমিকার সন্ধানের এক দলিল। কৃষক থেকে আমজনতা—সবার মধ্যে ভারতমাতাকে খোঁজার এক নিরন্তর চেষ্টা ছিল নেহেরুর রাজনৈতিক জীবনের সারসত্য।