স্বামীকে খুনে স্ত্রীই মাস্টারমাইন্ড! শ্রীগঙ্গানগরে ওষুধ ব্যবসায়ীর দেহ খালে ফেলার ঘটনায় গ্রেফতার ৬

রাজস্থানের শ্রীগঙ্গানগরে ওষুধের দোকানের মালিক কপিল জিন্দাল হত্যা মামলায় সামনে এল এক ভয়াবহ ষড়যন্ত্রের চিত্র। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ মৃতের স্ত্রী, দুই ছেলে, জামাইসহ মোট ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, পারিবারিক বিবাদের জেরেই পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়েছে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট:
৩৬ বছর বয়সী ব্যবসায়ী কপিল জিন্দাল আট মাস আগে ৫২ বছর বয়সী সুখবিন্দর কৌরকে আর্য সমাজ মন্দিরে বিয়ে করেছিলেন। তাঁরা শ্রীগঙ্গানগরের ভরদ্বাজ কলোনিতে থাকতেন। ২৩ মে গভীর রাতে একদল দুষ্কৃতী তাদের বাড়িতে চড়াও হয় এবং কপিলকে মারধর করে একটি গাড়িতে তুলে অপহরণ করে নিয়ে যায়। ঘটনার পর সুখবিন্দর দাবি করেছিলেন, অপহরণকারীরা তাকেও তুলে নিয়ে গিয়ে মাঝপথে ফেলে রেখে গিয়েছে। তবে এই বয়ান পুলিশকে প্রথম থেকেই বিভ্রান্ত করছিল।

ষড়যন্ত্র ও হত্যার কিনারা:
কপিলের মামা বিনয় কুমার গার্গের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে একটি ডিএল (DL) নম্বরযুক্ত গাড়ির হদিশ পায় পুলিশ। সেই সূত্র ধরেই পুলিশ জানতে পারে, সুখবিন্দর কৌর তাঁর প্রাক্তন স্বামীর দুই ছেলে, জামাই এবং আরও কয়েকজন সঙ্গীর সঙ্গে মিলে এই খুনের ছক কষেছিলেন।

যেভাবে উদ্ধার দেহ:
পুলিশি জেরায় অভিযুক্তরা স্বীকার করে যে, অপহরণের পর কপিলকে হত্যা করে তাঁর হাত-পা দড়ি দিয়ে বেঁধে ইন্দিরা গান্ধী খালে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। ২৬ মে সন্ধ্যায় মাসিতানওয়ালি হেডের কাছে থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতরা:
পুলিশি অভিযানে গ্রেফতার হওয়া ছয় অভিযুক্ত হলেন—সুখবিন্দর কৌর, তাঁর দুই ছেলে গুরপ্রীত সিং ও ববি নাগরা, তাঁদের দুই বন্ধু সিকান্দার সিং ও সাতপাল সিং এবং জামাতা গুরদর্শন সিং।

তদন্তের মোড়:
পুলিশ সুপার হরিশচন্দ্র জানিয়েছেন, পরিবারের সাথে দীর্ঘদিনের মতপার্থক্যের জেরেই এই খুন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ বর্তমানে অভিযুক্তদের রিমান্ডে নিয়ে হত্যাকাণ্ডের মূল উদ্দেশ্য ও অন্য কোনো ব্যক্তি এর সঙ্গে যুক্ত কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত চালাচ্ছে।

এই ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এবং জনমনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।