ED-র গাড়িতে ব্যাপক হামলা, বিজয়নের বাড়ি তল্লাশিতে গিয়েছিলেন আধিকারিকরা

কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের বাসভবনে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-এর তল্লাশি অভিযানকে কেন্দ্র করে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি সৃষ্টি হলো দক্ষিণ ভারতে। ‘কোচিন মিনারেলস অ্যান্ড রুটাইল লিমিটেড’ (CMRL) সংক্রান্ত এক আর্থিক দুর্নীতি মামলায় ইডির এই হানা ঘিরে বুধবার সকাল থেকেই রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে তিরুবনন্তপুরম। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, তল্লাশি শেষে ফেরার সময় ইডি আধিকারিকদের গাড়িতে হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে সিপিএম কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে।

ঠিক কী ঘটেছে? বুধবার সকাল থেকেই পিনারাই বিজয়নের তিরুবনন্তপুরমের বর্তমান বাসভবন, কন্নুরে তাঁর পৈতৃক ভিটে এবং কোঝিকোড়ে তাঁর জামাই তথা প্রাক্তন মন্ত্রী মহম্মদ রিয়াজের বাড়িতে তল্লাশি চালান কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা। তদন্ত চলাকালীনই বাড়ির বাইরে জড়ো হতে থাকেন শতাধিক সিপিএম সমর্থক। আধিকারিকরা যখন ফিরে আসছিলেন, তখন তাঁদের গাড়ি আটকানো হয়। অভিযোগ, ইডির গাড়ির কাঁচ ভেঙে দেওয়া হয় এবং আধিকারিকদের লক্ষ্য করে হেলমেট, পাথর ও জলের বোতল ছোঁড়া হয়। আক্রান্ত গাড়িটিতে মহিলা আধিকারিকরাও ছিলেন বলে জানা গেছে। পরে সিপিএম শীর্ষ নেতৃত্বের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

কী এই ‘পে-অফ’ মামলা? তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, ২০১৮ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে CMRL নামক সংস্থাটি পিনারাই বিজয়নের কন্যা টি ভিনার মালিকানাধীন সংস্থা ‘এক্সালজিক সলিউশনস’ (Exalogic Solutions)-কে ১.৭২ কোটি টাকা দিয়েছিল। অভিযোগ, বিনিময়ে ওই সংস্থা থেকে কোনও পরিষেবাই নেওয়া হয়নি। এটি আসলে দুর্নীতির ‘পে-অফ’ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। সম্প্রতি কেরল হাইকোর্ট এই মামলা খারিজের আবেদন নাকচ করার পরেই তৎপর হয় ইডি।

রাজনৈতিক তরজা: এই অভিযানকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে দাবি করেছেন সিপিএম সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি। তাঁর কথায়, “জনতার সামনে আমরা প্রমাণ করব এই অভিযান সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।” অন্যদিকে, পিনারাই বিজয়ন শুরু থেকেই তাঁর মেয়ের বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছেন। তিনি জানিয়েছেন, পরিবারকে কালিমালিপ্ত করতেই এই চক্রান্ত চালানো হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত মাসে বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতা হারানোর পর থেকেই পিনারাই বিজয়ন কেরল বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার ভূমিকা পালন করছেন। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এদিন সিপিএমের বিক্ষোভের জেরে সাধারণ জনজীবনে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। তদন্তের পরবর্তী পর্যায়ে কী তথ্য উঠে আসে, এখন সেদিকেই নজর ওয়াকিবহাল মহলের।