মহিলাদের প্রকল্পে ‘রাকিবুল শেখ’-এর নাম! লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের অস্বচ্ছতা নিয়ে বিস্ফোরক মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

রাজ্যের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পে ব্যাপক অস্বচ্ছতা ও ভুয়ো উপভোক্তার অভিযোগ তুলে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার নবান্নে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের ফর্ম প্রকাশের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, মহিলাদের জন্য তৈরি এই প্রকল্পে পুরুষদের নামেও টাকা ঢুকছে। বেনোজল সরাতে এবং প্রকৃত যোগ্যদের চিহ্নিত করতেই নতুন ফর্মের মাধ্যমে কঠোর তথ্য যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রাকিবুল শেখের উদাহরণ ও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বহরমপুরের বাসিন্দা রাকিবুল শেখের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ করেন, ‘‘যে কর্মসূচি মহিলাদের জন্য, সেখানেও ভেজাল ঢুকে আছে। বহরমপুরের শিয়ালমারা রাধারঘাট ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা রাকিবুল শেখের নামে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা ঢুকছে।’’ শুভেন্দুর দাবি, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে প্রায় ৩০ লক্ষ ভুয়ো বা অন্যায্য উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে প্রতি মাসে সরকারি অর্থ যাচ্ছে।

কেন এই কঠোর যাচাই প্রক্রিয়া? মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, ভোটার তালিকা থেকে যাদের নাম স্থায়ীভাবে বাদ গিয়েছে বা যারা ভারতীয় নন, এমন বিপুল সংখ্যক মানুষও লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধা পাচ্ছেন। তাই অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা আনতেই নতুন করে তথ্য যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্মে আবেদনকারীদের থেকে বিস্তারিত পারিবারিক তথ্য চাওয়া হয়েছে, যাতে কোনো ভুয়ো নাম আর তালিকায় না থাকতে পারে।

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে ‘বেনোজল’ আটকানোর উপায়:

  • বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ: নতুন ফর্মে আবেদনকারীর পাশাপাশি পরিবারের খুঁটিনাটি তথ্য চাওয়া হয়েছে।

  • সরাসরি মনিটরিং: বিধায়ক এবং বিডিও-দের এই যাচাই প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত করা হয়েছে।

  • প্রযুক্তি ও সমন্বয়: প্রতিটি ওয়ার্ড ও ব্লকে ভার্চুয়াল কর্মসূচির মাধ্যমে নজরদারি চালানো হবে।

  • জনকল্যাণ শিবির: আগামী ১৫ থেকে ১৭ জুন বিশেষ শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে ফর্ম পূরণে সরকারি কর্মীরা সরাসরি সাধারণ মানুষকে সাহায্য করবেন।

শুভেন্দুর বার্তা: মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন, সরকার রাজ্যের মা-বোনেদের মাসে ৩,০০০ টাকা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, কিন্তু তা কেবল প্রকৃত প্রাপকদের হাতেই পৌঁছাতে হবে। তিনি আরও বলেন, ‘‘সরকার একদিকে যেমন যোগ্যদের টাকা দিতে চায়, তেমনই রাজ্য ও কেন্দ্রের বিভিন্ন প্রকল্পের সুফল যেন প্রতিটি পরিবার পায়, তার জন্য আমরা তথ্য সংগ্রহ করছি।’’

৯০ দিন ধরে এই নাম নথিভুক্তিকরণ প্রক্রিয়া চলবে। তাই আবেদনকারীদের অযথা তাড়াহুড়ো না করার পরামর্শ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এখন দেখার, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের এই কঠোর ‘ফিল্টারিং’ প্রক্রিয়ায় শেষ পর্যন্ত কতজন ভুয়ো নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ে।